তেড়ে এল ‘চোর’ স্লোগান, মেজাজ হারিয়ে মঞ্চ ছাড়লেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য

নদীয়ার পলাশিপাড়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড! ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়ে নিজের খাসতালুকেই বেনজির বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। গ্রামবাসীদের একাংশ শুধু বিধায়ককে ঘিরে ধরলই না, সরাসরি মুখের ওপর ‘চাকরি চোর’ স্লোগান দিয়ে এলাকা উত্তপ্ত করে তুলল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জনরোষের মুখে পড়ে উদ্বোধনী ভাষণ আসামাপ্ত রেখেই কার্যত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল বিলকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়?
বৃহস্পতিবার বিলকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। অভিযোগ, জেলা পরিষদের অনুমোদিত রাস্তার নকশা বদল করে বিধায়ক নিজের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বুথ কমিটি গঠনেও পুরোনো কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের অনুগামীদের জায়গা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মানিকবাবু যখন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন, তখনই একদল জনতা ফেটে পড়ে বিক্ষোভে। নিয়োগ দুর্নীতিতে জেল খেটে আসা বিধায়কের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “গোটা বাংলায় মানিকের মতো দুর্নীতিবাজ আর কেউ নেই।”
হাতজোড় করেও মিলল না রেহাই
উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য মঞ্চ থেকে বারবার হাতজোড় করে অনুরোধ জানান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা থামতে নারাজ ছিলেন। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে এবং দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের কোণঠাসা করা হচ্ছে। বেগতিক দেখে কোনোমতে অনুষ্ঠান শেষ করে দ্রুত গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি।
অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে খোদ শাসক দলের বিধায়ককে এভাবে নিজের এলাকায় ‘চোর’ সম্বোধন করায় প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। নদীয়া জেলা তৃণমূলের একাংশ এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত। যদিও কৃষ্ণনগর জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির তকমা যেভাবে মানিক ভট্টাচার্যের পিছু ছাড়ছে না, তাতে আসন্ন নির্বাচনে দলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে।