বেলডাঙা হিংসার তদন্তে সংঘাত তুঙ্গে! কেস ডায়েরি নিয়ে মমতা সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এনআইএ

বেলডাঙা হিংসার তদন্তে সংঘাত তুঙ্গে! কেস ডায়েরি নিয়ে মমতা সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এনআইএ

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ১৬ জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী হিংসার তদন্ত ঘিরে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে এবং মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা ‘কেস ডায়েরি’ হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃত দেরির প্রতিবাদ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার এক্তিয়ার নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

হাইপোল্টেজ সংঘাত ও আদালতের কড়া অবস্থান

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ধার্য করা হয়েছে। এর আগে বিশেষ এনআইএ আদালত রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো মূল্যে বেলডাঙা হিংসা মামলার সমস্ত কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, বিচারক কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, গ্রেফতার হওয়া ৩১ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানোর প্রাথমিক দায়িত্ব রাজ্য পুলিশেরই, এনআইএ-র নয়।

প্রেক্ষাপট: ঠিক কী ঘটেছিল বেলডাঙায়?

গত ১৬ জানুয়ারি বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-র মতো অত্যন্ত কঠোর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে খোদ সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল, তাও খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টকে। আগামী শুনানিতে এনআইএ-কে তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট একটি সিলমোহর করা খামে আদালতের কাছে পেশ করতে হবে। এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবার হাইকোর্টের শুনানিতে রাজ্য পুলিশের তরফে কোনো সাফাই দেওয়া হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *