২ কোটি ফলোয়ারের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’তে ফাটল! গ্রেফতারির আতঙ্কে বাবা-মা, মালিকানা নিয়ে কাড়াকাড়ি?

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিবাদে যুব সমাজের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করা এবং মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদদের মতো হেভিওয়েটদের যোগদানে কাঁপানো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ভেতরে ও বাইরে এবার চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলো। এক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ কোটি ফলোয়ারের রেকর্ড গড়া এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী ভারতীয় অভিজিৎ দিপকে যখন সুদূর আমেরিকায় বসে খুনের হুমকি পাচ্ছেন, ঠিক তখনই দেশের মাটিতে তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে, এই বিপুল জনপ্রিয় পেজটির আসল মালিকানা ও নাম নিজের দখলে নিতে পর্দার আড়ালে শুরু হয়ে গেছে তীব্র আইনি লড়াই।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন জেলা স্তরে একের পর এক পুরসভায় তৃণমূলের পতন ঘটছে এবং ভাটপাড়া-হালিশহরের পর কালনার কাউন্সিলর অনিল বসুরা শ্রীঘরে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ডিজিটাল দুনিয়া কাঁপানো এই অভিনব ‘আরশোলা বাহিনী’র অন্দরেও এক মস্ত বড় ‘খেলা’ শুরু হয়ে গেল।
বিখ্যাত হতেই গ্রেফতারির ভয়, আতঙ্কিত অভিজিতের পরিবার
CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আকস্মিক এই বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া আলোড়ন এখন তাঁর বাবা-মায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলের এই রণংদেহী পারফরম্যান্স ও ইস্তাহার ভাইরালের জেরে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় আইনি কোপ বা গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের তীব্র উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে অভিজিতের বাবা ভগবান দিপকে বলেন:
“সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর যত কোটি ফলোয়ারই থাকুক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের কাছে অত্যন্ত ভীতিকর ও উদ্বেগের। সে এখন মারাত্মক বিখ্যাত হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের দেশের যা রাজনৈতিক পরিমণ্ডল, তাতে এমন প্রভাবশালী ও স্পষ্টবক্তা মানুষদের প্রায়শই নানা অজুহাতে গ্রেফতার করা হয়। আমরা ওর নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।”
নাম ও মালিকানা নিয়ে কাড়াকাড়ি, জমা পড়ল ৩টি ট্রেডমার্ক আবেদন
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির এই আকাশছোঁয়া ফলোয়ার সংখ্যা এবং যুব সমাজের ওপর এর গভীর প্রভাব দেখে এই প্ল্যাটফর্মের নাম ও লোগোর স্বত্ব (Ownership) নিজের নামে করতে আসরে নেমে পড়েছে একাধিক সুযোগসন্ধানী পক্ষ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভারতের নিয়ামক সংস্থায় তিনজন ভিন্ন ব্যক্তি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক একচেটিয়া অধিকার দাবি করে আলাদা আলাদা ট্রেডমার্ক (Trademark) আবেদন জমা দিয়েছেন। ফলে পেজটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে হলেও, আইনি কাগজে এর আসল মালিক কে হবেন, তা নিয়ে এক নজিরবিহীন আইনি যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী তৃণমূলের দলবদলুদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং হুগলিতে বেআইনি ইমারত ভাঙতে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে— সেই কড়া প্রশাসনিক আবহের মাঝেই সিজেপি-র এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তামাদি হয়ে যাওয়া দলগুলির বিকল্প হিসেবে নেটিজেনরা যেভাবে এই আরশোলা পেজটিকে আপন করে নিয়েছিল, বাইরের হুমকি আর ভেতরের এই মালিকানার লড়াইয়ের জেরে সেই পেজের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।