রাজ্যে এবার ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’! কুটির ও হস্তশিল্পীদের জন্য বিরাট সুখবর

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করার যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় এবার এক মহাগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জল জীবন মিশন প্রকল্পের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ চালু করার মেগা ঘোষণার পর, এবার রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (MSME) শিল্পক্ষেত্রে কেন্দ্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’ (PM Vishwakarma Scheme) চালু হতে চলেছে।
বিগত তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েন থাকলেও, নতুন সরকার আসার পর সমস্ত ‘গেরো’ কেটে গেছে। শুক্রবারই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার সবুজ সংকেট দেওয়া হয়েছে।
কার্যকর করতে রাজ্য ও জেলাভিত্তিক নজরদারি কমিটি
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ঐতিহ্যবাহী শিল্পী ও কারিগরদের কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে নবান্ন। এই প্রকল্পটিকে নিখুঁতভাবে কার্যকর করার জন্য অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের রাজ্যভিত্তিক এবং প্রতিটি জেলায় পৃথক জেলাভিত্তিক নজরদারি কমিটি (Monitoring Committee) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিগুলি সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবে।
কারা পাবেন সুবিধা? কী এই বিশ্বকর্মা যোজনা?
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক স্তরের আদি ও ঐতিহ্যবাহী পেশার সাথে যুক্ত কারিগরদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো।
প্রকল্পের মূল রূপরেখা ও সুবিধা:
- উপভোক্তা চিহ্নিতকরণ: ছুতোর, কামার, কুমার, তাঁতি, দর্জি, রাজমিস্ত্রি, চর্মকার এবং ভাস্করসহ মোট ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার সাথে যুক্ত প্রকৃত শিল্পীদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে।
- কাজের মান উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ: চিহ্নিত কারিগরদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে বিশেষ দক্ষতার প্রশিক্ষণ (Skill Training) দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে সরকারি স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে।
- উৎপাদন সহজীকরণ ও আধুনিক টুলকিট: শিল্পীদের হাতের কাজকে আরও উন্নত ও সহজ করতে সরকার উন্নতমানের আধুনিক টুলকিট কেনার জন্য ১৫,০০০ টাকার আর্থিক অনুদান দেবে।
- সহজ শর্তে ঋণ: নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই অত্যন্ত কম সুদে (মাত্র ৫%) প্রথম দফায় ১ লক্ষ এবং দ্বিতীয় দফায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন এই সমস্ত বিশ্বকর্মা শিল্পীরা।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, কালনা ও ডেবরায় তৃণমূল নেতাদের মেগা গ্রেফতারিতে জেলা স্তরের রাজনীতি উত্তাল, ঠিক অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ব্যাক-টু-ব্যাক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরাট জোয়ার আনতে চলেছে। বিশেষ করে নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে যেখানে কুটির ও হস্তশিল্পের ওপর লক্ষ লক্ষ পরিবার নির্ভরশীল, সেখানে এই ‘বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’ নতুন সরকারের এক মাস্টারস্ট্রোক হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।