ABVP-র পতাকা খোলা নিয়ে ধুন্ধুমার! অধ্যক্ষকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ও সবং এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রদীপ করের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে যখন জেলা রাজনীতি এমনিতেই উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ডেবরা ব্লকের এক স্বশাসিত মহাবিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর পতাকা লাগানো ও খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো এক চরম রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। শুক্রবার মেদিনীপুরের ডেবরা স্বশাসিত শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ভেতরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
এদিন কলেজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ডেবরা বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। কিন্তু বিধায়ক কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
অধ্যক্ষের ঘরে তুমুল বচসা ও বিক্ষোভ
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বিধায়কের আগমনকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই কলেজ চত্বরে এবিভিপি-র পক্ষ থেকে বেশ কিছু দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন বা তার পরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেই সমস্ত পতাকা ক্যাম্পাস থেকে খুলে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিধায়ক শুভাশিস ওম কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই এবিভিপি-র সদস্য তথা কলেজের বেশ কিছু সাধারণ পড়ুয়া সশরীরে অধ্যক্ষের (Principal) ঘরে গিয়ে চড়াও হন। তাঁদের দাবি, কেন এবং কার নির্দেশে ছাত্র সংগঠনের এই পতাকা ক্যাম্পাস থেকে জোরপূর্বক খুলে দেওয়া হলো, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে অধ্যক্ষকে। এই নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে অধ্যক্ষের ঘরের ভেতরেই তুমুল বচসা ও বিক্ষোভ চলতে থাকে।
নতুন জমানায় উত্তপ্ত মেদিনীপুরের ক্যাম্পাস রাজনীতি
রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবং বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলা স্তরে পুরোনো জমানার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, ঠিক তখনই ডেবরা ও মেদিনীপুরের একাধিক কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একচেটিয়া প্রভাব রাখা ছাত্র সংগঠনগুলি এখন ব্যাকফুটে চলে যাওয়ায়, এবিভিপি-সহ অন্যান্য সংগঠনগুলি নিজেদের জমি শক্ত করতে ময়দানে নেমেছে।
এবিভিপি নেতৃত্বের অভিযোগ, কলেজের ভেতরে এখনও পুরোনো আমলের কিছু আধিকারিক ও শাসকদলের মদতপুষ্ট কর্মী সক্রিয় রয়েছেন, যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন বিধায়কের সফরের পর ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে এই ধরণের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতেই সমস্ত ধরণের রাজনৈতিক ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন সরানোর নিয়ম মেনে এই কাজ করা হয়েছে। ডেবরা থানার পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনার পর শহিদ ক্ষুদিরাম কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ছাত্র রাজনীতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।