খরচ কমাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ! ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশিকা জারি

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর তৎপরতা চলছে এবং কলকাতা পুরসভার অন্দরে জোড়া নোটিস নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই নবান্ন ও বিকাশ ভবনের প্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সরকারি দফতরের অতিরিক্ত খরচ এবং অপচয় রুখতে এবার বিকাশ ভবনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য সপ্তাহে একদিন করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশিকা জারি করা হলো।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে সরকারি দফতরগুলির অভ্যন্তরীণ খরচ ও অপচয় কমাতে বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সেই ব্যয়সঙ্কোচ নীতি ও নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই এবার রাজ্য স্তরে এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর করল প্রশাসন।
কাগজ ও গাড়ির ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণ
বিকাশ ভবনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য জারি হওয়া এই নতুন নির্দেশিকায় স্রেফ বাড়ি থেকে কাজ করাই নয়, দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ কমাতেও একগুচ্ছ কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- কাগজ ও প্রিন্ট নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা: দফতরে কাগজের অপচয় রুখতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি বা বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি ছাড়া কোনো সরকারি নথির প্রিন্ট বা হার্ডকপি নেওয়া যাবে না। সমস্ত ফাইল ও চিঠিপত্রের আদানপ্রদান মূলত ডিজিটাল মাধ্যমেই সারতে হবে।
- কার পুল ব্যবহারে রাশ: আধিকারিকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি বা ‘কার পুল’ (Car Pool) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া সরকারি গাড়ির অপব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা ৭টার পর আলো নেভানোর নির্দেশ
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অপচয় রুখতে এই নির্দেশিকায় আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিকাশ ভবনের দফতরগুলিতে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা সাতটার পর কোনো আলো জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। অতিরিক্ত সময় ধরে দফতর খুলে রেখে বিদ্যুতের অপচয় করা হচ্ছে কিনা, তার ওপরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং রাজকোষের ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রক রাজ্যগুলির সাথে মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক করছে, ঠিক অন্যদিকে বিকাশ ভবনের এই কঠোর ব্যয়সঙ্কোচ নীতি আসলে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করারই একটি অংশ। বিগত জমানার বিপুল ঋণের বোঝা সামলে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই ‘কর্পোরেট স্টাইল’ প্রশাসনিক সংস্কার আগামী দিনে অন্যান্য সরকারি দফতরেও কার্যকর হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।