রাস্তায় নমাজে নিষেধাজ্ঞা! নয়া সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এবার আদালতে যাচ্ছে তৃণমূল

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং কুটির শিল্পে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’ চালুর মতো একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় অধিকারকে কেন্দ্র করে এক নতুন আইনি সংঘাতের আবহ তৈরি হলো। রাজ্য সরকারের রাস্তা আটকে নমাজ পাঠের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কড়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মেটিয়াবুরুজ এলাকার এক মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলর এই নিয়ে শীঘ্রই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করতে চলেছেন বলে জানা গেছে।
কলকাতা পুরসভার জোড়া নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ এবং বিকাশ ভবনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ব্যয়সঙ্কোচ নীতি জারির মধ্যেই নবান্নের এই ‘রাস্তায় ধর্মাচরণ’ সংক্রান্ত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের পারদ চড়তে শুরু করেছে।
মমতার নির্দেশে মামলার প্রস্তুতি মেটিয়াবুরুজের কাউন্সিলরের
নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই জনজীবন সচল রাখতে এবং যানজট রুখতে রাস্তা বা গণপরিবহনের জায়গা আটকে যেকোনো ধরণের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা নমাজ পাঠের ওপর কড়া আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে দাবি করেছে বিরোধী শিবির।
এই আবহে মেটিয়াবুরুজের ওই মহিলা তৃণমূল পুরপ্রতিনিধিকে নয়া সরকারের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই লড়ার নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে এই নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হতে পারে।
আইন বনাম অধিকারের নতুন দ্বৈরথ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিজেপি বিধায়কেরা এবং ডেবরায় এবিভিপি-র পতাকা খোলা নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে— সেই গরম আবহে এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপি ও নতুন সরকারের স্পষ্ট বার্তা, আইন সবার জন্য সমান এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার বা রাজপথ আটকে কোনো ধরণের ধর্মীয় প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, তৃণমূল এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে নয়া সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে চাইছে। পুরসভার অন্দরে সমান্তরাল অধিবেশন ডাকার নাটক এবং মেয়াদের আগেই পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য সজল ঘোষদের দাবির মাঝেই, রাস্তার নমাজ সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই আগামী দিনে নবান্ন বনাম কালীঘাটের সংঘাতকে কোন স্তরে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।