দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে মেগা বৈঠক শুভেন্দুর! ছাব্বিশের নতুন সরকারকে সুশাসনের বার্তা শাহের

কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিবের হাই-প্রোফাইল সফর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া নোটিসের পালটা চ্যালেঞ্জ এবং মেটিয়াবুরুজের কাউন্সিলরের রাস্তায় নমাজ বিতর্কে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতির মাঝেই, জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে সম্পন্ন হলো এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। শুক্রবার নয়া দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদীয় কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এটিই ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেন্দুর প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে জল জীবন মিশনের ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আদায় এবং ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’ চালুর ঘোষণার পরেই শাহ-শুভেন্দুর এই বৈঠক বাংলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন অমিত শাহের, সুশাসনের বার্তা
শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই ম্যারাথন সাক্ষাতের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই তাঁর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা মনে অভিনন্দন জানান।
নিজের পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন:
“আমি পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমি তাঁকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছি। মোদীজীর দূরদর্শী পরামর্শ এবং আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী দিনে রাজ্যের জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ ও সুশাসনের (Good Governance) জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবে।”
অনুপ্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা
দিল্লির রাজনৈতিক সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে স্রেফ সৌজন্য বিনিময়ই নয়, রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এর আগে শুক্রবারই দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, “অনুপ্রবেশকারীদের এ রাজ্যে জেলে রেখে ভারতীয় করদাতাদের কষ্টের পয়সা আর নষ্ট করা হবে না, তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই অনমনীয় অবস্থানের পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ প্রমাণ করছে যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনে নয়া রাজ্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যৌথভাবে কোনো বড়সড় ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ডানকুনি, সল্টলেক, বুনিয়াদপুর ও কালনায় দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা একের পর এক শ্রীঘরে যাচ্ছেন, ঠিক অন্যদিকে দিল্লির দরবারে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই ব্যাক-টু-ব্যাক বৈঠক রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনে নয়া সরকারের হাতকে আরও শক্ত করল। শাহের এই ‘সুশাসন ও নিষ্ঠার’ বার্তা আগামী দিনে মেদিনীপুর থেকে উত্তরবঙ্গ— সর্বত্র প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।