শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষ! নয়া সরকারের জমানায় বড় সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য দফতরের

শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষ! নয়া সরকারের জমানায় বড় সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন একাধিক প্রশাসনিক রদবদল ও ধরপাকড় চলছে, ঠিক তখনই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী তথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বেলেঘাটার ‘বিসি রায় শিশু হাসপাতাল’-এর রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হলো তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষকে।

কলকাতা পুরসভার জোড়া নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ এবং মেটিয়াবুরুজের কাউন্সিলরের রাস্তায় নমাজ বিতর্কে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতির মাঝেই, শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে স্বাস্থ্য দফতরের এই বিজ্ঞপ্তি নিঃসন্দেহে এক বড় চমক।

জনপ্রতিনিধি হিসাবে মানুষের কাজ করতে চাই: কুণাল

সরকারি এই সিদ্ধান্ত এবং রোগী কল্যাণ সমিতিতে নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক তরজায় না গিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের কর্তব্য পালনের ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি।

কুণাল ঘোষ জানান:

“বিধায়ক হিসাবে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল শিশু চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশে আমি সবসময় থাকব। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য যদি কাজ করতে পারি, তবে জনপ্রতিনিধি হিসাবে অত্যন্ত ভালো লাগবে।”

নয়া জমানার ‘পলিটিক্যাল ব্যালেন্স’? চর্চায় রাজনৈতিক মহল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন কালনা, ডানকুনি, সল্টলেক ও ডেবরায় তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের মেগা গ্রেফতারিতে জেলা স্তরের রাজনীতি উত্তাল, অন্যদিকে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘সুশাসন ও জনগণের কল্যাণের’ মন্ত্র দিচ্ছেন— সেই সময় কলকাতার একটি বড় সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ককে জায়গা দেওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকারের জমানায় হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবাকে সম্পূর্ণ দলদাসের রাজনীতির বাইরে রাখতেই এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে কুণাল ঘোষকে এই দায়িত্ব দেওয়া মূলত এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন এবং হাসপাতালের রোগী পরিষেবাকে আরও মসৃণ করার লক্ষ্যেই একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে যখন ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা কর্মসূচি’ এবং ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ চালুর প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে, তখন কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষের এই অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে কেমন কাজ করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *