চার বিজেপি কর্মীর ওপর ইট ছুঁড়ে ভয়ঙ্কর হামলা

গঙ্গারামপুরে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ডাম্পারের ধাক্কায় তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি নিয়ে কুণাল ঘোষ বনাম অগ্নিমিত্রা পালের মেগা সংঘাতের মাঝেই, দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক অলিন্দে ফের এক রক্তক্ষয়ী হিংসার ঘটনা সামনে এল। বালুরঘাটে বিধানসভার স্পিকার রথীন বসুর মহাসংবর্ধনাসভা সেরে শনিবার গ্রামে ফেরার পথে তপন ব্লকের আজমতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাগইট এলাকায় চার বিজেপি নেতা ও কর্মীর ওপর পিছন থেকে ইট ছুঁড়ে ভয়ঙ্কর হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) বা বিদায়ী শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
এই মেগা হামলায় শিবাজী মাহাতো নামে এক প্রথম সারির বিজেপি নেতা গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় বর্তমানে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা তপন ও গঙ্গারামপুর বিধানসভা এলাকা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার মেগা তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
স্পিকারের সংবর্ধনাসভা থেকে ফেরার পথেই অতর্কিত হামলা
বিজেপি দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বালুরঘাটে নবনির্বাচিত বিধানসভার স্পিকার রথীন বসুর জন্য এক বিশাল মহাসংবর্ধনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মেগা কর্মসূচিতে যোগ দিতে তপন ব্লকের আজমতপুর এলাকা থেকে একঝাঁক বিজেপি নেতাকর্মী ও সমর্থক গিয়েছিলেন। সভা শেষ করে শনিবার সন্ধ্যার দিকে যখন তাঁরা নিজেদের এলাকায় ফিরছিলেন, ঠিক তখনই বাগইট এলাকায় ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর আচমকা চড়াও হয়।
অভিযোগের মূল বিবরণ নিম্নরূপ:
- ইট-পাথর বৃষ্টি: চলন্ত বাইক ও গাড়ি লক্ষ্য করে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চারপাশ থেকে এলোপাথাড়ি ইট ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা।
- গুরুতর আহত নেতা: ইটের সরাসরি আঘাতে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় ও পিঠে মারাত্মক চোট পান বিজেপি নেতা শিবাজী মাহাতো। তাঁর সাথে থাকা আরও তিন কর্মী কমবেশি আহত হন।
- তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দিকে আঙুল: বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, ছাব্বিশের নির্বাচনে এই এলাকায় পায়ের তলার মাটি হারানো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের স্থানীয় গুন্ডারাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।
হাসপাতালে ভিড় বিজেপি নেতৃত্বের, তদন্তে পুলিশ
ঘটনার পরই তীব্র রক্তাক্ত অবস্থায় শিবাজী মাহাতোকে উদ্ধার করে দ্রুত গঙ্গারামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাতে রাতেই গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ লিম্বু এবং দলের অন্যান্য জেলা স্তরের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে ভিড় জমান। বিজেপি নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, বাংলায় এখন সুশাসনের সরকার চলছে এবং এই ধরণের রাজনৈতিক হিংসা বা ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার মেগা গ্যারান্টি দিয়েছেন তাঁরা।
অন্য দিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য এই হামলার সাথে তাঁদের ছাত্র সংগঠনের কোনো যোগ থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, এটি বিজেপির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তপন থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিজেপির পক্ষ থেকে টিএমসিপি-র বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বাগইট ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুলিশ।
একদিকে যখন আজ রবিবার বিকেলে নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মহাসংবর্ধনাসভাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে সাজ সাজ রব এবং অন্যদিকে কুণাল ঘোষের ‘কচ্ছপ পোস্ট’ নিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দ উত্তপ্ত— সেই হাই-ভোল্টেজ আবহের সমান্তরালে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে এই রক্তক্ষয়ী হামলা ছাব্বিশের পরিবর্তিত বাংলায় আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নব্য প্রশাসনের কড়া নজরদারির মস্ত বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।