ছাব্বিশের ধাক্কায় এবার গারুলিয়া পুরসভায় মেগা ধস! একসঙ্গে ১১ কাউন্সিলরের ইস্তফা, সোমবার পদ ছাড়ছেন খোদ পুরপ্রধান

রাজারহাটের বুথ বিতর্ক, দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে বিজেপি কর্মীদের ওপর ভয়ঙ্কর হামলা এবং তীব্র তাপপ্রবাহে তেলঙ্গানায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবরের মাঝেই, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মেগা বিস্ফোরণ ঘটে গেল। এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে গারুলিয়া পুরসভাও। বিদায়ী শাসকদলের তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের ধাক্কায় একসঙ্গে ইস্তফা দিলেন গারুলিয়া পুরসভার ৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। সব মিলিয়ে এদিন তৃণমূল ও অন্যান্য দল মিলিয়ে মোট ১১ জন কাউন্সিলর তাঁদের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন, যা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনের ব্যর্থতা এবং বরাহনগরে দাপুটে নেতা শঙ্কর রাউতের গ্রেফতারির চরম অস্বস্তির মাঝেই, গারুলিয়া পুরসভার এই মেগা ধস ঘাসফুল শিবিরের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সোমবার পুরপ্রধান রমেন দাসের মহাইনডিংস, ভাঙছে বোর্ড
পুরসভা ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২১টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট গারুলিয়া পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। এদিন একসঙ্গে ১১ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ায় পুরবোর্ডের স্থায়িত্ব নিয়েই মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গেছে।
গারুলিয়া পুরসভার বর্তমান সমীকরণ ও আগামী সোমবারের মেগা আপডেট:
- বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি: ২১টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় ১১ জনের ইস্তফার পর বর্তমানে আর মাত্র ১০ জন কাউন্সিলর অবশিষ্ট রয়েছেন। অর্থাৎ, পুরবোর্ড ইতিমধ্যেই কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে গেছে।
- খোদ চেয়ারম্যানের ইস্তফার ঘোষণা: গারুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান (Chairman) রমেন দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাকি থাকা ১০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে আরও ৮ জন আগামী সোমবারের মধ্যে নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে দেবেন। শুধু তাই নয়, রমেনবাবু নিজে সোমবার চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেবেন বলে মেগা ঘোষণা করেছেন।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের পুরোনো দুর্গ পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাটপাড়া, হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ার পর গারুলিয়ার এই গণ-ইস্তফা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের পুরোনো সাংগঠনিক দুর্গগুলি এখন পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে। ক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের এই পদক্ষেপের জেরে পুরবোর্ডটি ভেঙে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সোমবার পুরপ্রধানের ইস্তফার পর এই বিদায়ী কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ নব্য শাসকদল বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, যার ব্লু-প্রিন্ট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।
একদিকে যখন আজ রবিবার বিকেলে নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মহাসংবর্ধনাসভাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে সাজ সাজ রব এবং অন্যদিকে কুণাল ঘোষের ‘কচ্ছপ পোস্ট’ নিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দ উত্তপ্ত— সেই হাই-ভোল্টেজ দেশীয় রাজনীতির সমান্তরালে গারুলিয়া পুরসভার এই মহাবিপর্যয় ছাব্বিশের পরিবর্তিত বাংলায় পুর-প্রশাসনে এক মস্ত বড় রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোমবার পুরপ্রধানের পদত্যাগের পর নবান্ন এই পুরসভার রাশ ধরে প্রশাসক বসায় নাকি নতুন বোর্ডের গঠন হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।