তৃণমূলের মেগা দুঃসময়ে ‘পুরনো চাল’ মদন মিত্রে আস্থা মমতার! মদনকে বড় দায়িত্ব দিলেন মমতা

বেহালায় তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের হেভিওয়েট গ্রেফতারি এবং গারুলিয়া পুরসভায় ১১ জন কাউন্সিলরের গণ-ইস্তফায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে মেগা ধসের মাঝেই, বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে এক মস্ত বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ সাংগঠনিক রদবদলের খবর সামনে এল। ছাব্বিশের মেগা বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর যখন চারদিক থেকে দলের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে, ঠিক তখনই দলের অন্যতম বর্ণময় ও প্রবীণ নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) ওপর এক বিশাল বড় দায়িত্ব সঁপে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চরম সংকটের দিনে ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’— এই চিরন্তন নীতিকে হাতিয়ার করেই কামারহাটি থেকে জিতে আসা লড়াকু মদন মিত্রকে নব্য গঠিত দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি (District President) পদে বসালেন মমতা।
তৃণমূলের মস্ত বড় চাল: তৈরি হলো নতুন ‘দমদম সাংগঠনিক জেলা’
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কালীঘাট সূত্রে জানা গেছে, এতদিন পর্যন্ত দলের কাঠামোয় ‘দমদম সাংগঠনিক জেলা’ বলে আলাদা কোনো অস্তিত্ব বা ভাগ ছিল না। মূলত উত্তর ২৪ পরগনা ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে সাজাতে এবং দক্ষিণ দমদম ও দমদম সংলগ্ন এলাকায় দলের ভাঙন রুখতেই এই নতুন সাংগঠনিক জেলা তৈরি করার মেগা সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই নতুন জেলার রাশ তুলে দেওয়া হলো কামারহাটির ‘কালারফুল’ বিধায়কের হাতে।
মদন মিত্রকে এই বড় পদে আনার মূল কারণগুলি নিম্নরূপ:
- ভরাডুবির মাঝেও জয়ের রেকর্ড: এবারের নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের কার্যত মহাবিপর্যয় ঘটলেও, নিজের খাসতালুক কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাম-বিজেপির মেগা টক্করকে উড়িয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে এসেছেন মদন মিত্র। সংকটের দিনেও তাঁর এই নিজস্ব জনভিত্তিকেই পুরস্কৃত করল দল।
- ড্যামেজ কন্ট্রোলের মেগা মাস্টার: দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের রহস্যমৃত্যু এবং গারুলিয়া পুরবোর্ডে ভাঙন ধরার পর ব্যারাকপুর ও দমদম শিল্পাঞ্চলের কর্মীরা চূড়ান্ত দিশেহারা। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং ক্ষোভ প্রশমন করতে মদন মিত্রের মতো একজন আমজনতার নেতার কোনো বিকল্প ছিল না মমতার কাছে।
কচ্ছপ পোস্টের আবহে মদনের অভিষেক, শুরু রাজনৈতিক তরজা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কচ্ছপ পোস্ট’ করে দলের সুবিধাবাদী ও প্রবীণ নেতাদের তীব্র খোঁচা দিচ্ছেন, ঠিক সেই বিতর্কের আবহেই মদন মিত্রের মতো একজন সিনিয়র অথচ সদা সক্রিয় নেতাকে এই মেগা দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, বিপদের দিনে যাঁরা খোলসে না ঢুকে মাঠে নেমে লড়াই করতে পারেন, দল তাঁদের ওপরেই ভরসা রাখবে।
একদিকে যখন আজ রবিবার বিকেলে নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মহাসংবর্ধনাসভাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে সাজ সাজ রব এবং অন্যদিকে রাজারহাটের মুসলিম পাড়ায় ৯৭ শতাংশ বিজেপি ভোট পড়া নিয়ে ইভিএম কারচুপির মেগা বিতর্ক চলছে— সেই অলআউট রাজনৈতিক যুদ্ধের সমান্তরালে, দমদম ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুরোনো জমি পুনরুদ্ধার করতে এবং হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে ‘দাদা’ মদন মিত্রের এই রাজকীয় অভিষেক ছাব্বিশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আবহে এক মস্ত বড় মোড় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খুব শীঘ্রই নতুন জেলা কমিটির তালিকা ঘোষণা করবেন নতুন সভাপতি।