বাংলাদেশি পাচারকারীদের যোগসাজশ, বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধে CM শুভেন্দুকে নালিশ BJP-র

মালদা জেলা তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এক মস্ত বড় আন্তর্জাতিক ও প্রশাসনিক কেলেঙ্কারির বোমা ফাটল। বাংলাদেশি পাচারকারীদের সাথে সরাসরি গোপন যোগাযোগ ও আঁতাত রাখার মতো এক মারাত্মক ও গর্হিত অভিযোগ উঠল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিঅ (BDO) শানু বক্সির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে ওই বিতর্কিত সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছে মালদা জেলা বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব।
শুধু নবান্নে নালিশ জানানোই নয়, ওই বিডিও-র বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি নিয়ে কুণাল ঘোষ বনাম অগ্নিমিত্রা পালের তরজা এবং বেহালায় তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারির চরম ডামাডোলের সমান্তরালে, মালদার এই বিডিও-র ‘বাংলাদেশ কানেকশন’ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এক নজিরবিহীন তোলপাড় তৈরি করেছে।
গোপন চ্যাট ফাঁসের সেই বিতর্কিত বিডিও এবার বড়সড় আন্তর্জাতিক জটে
বিজেপি দলীয় ও মালদা জেলা সূত্রে জানা গেছে, হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও শানু বক্সির বিতর্কিত কীর্তি এই প্রথম নয়, এর আগেও তাঁর নাম এক মস্ত বড় রাজনৈতিক স্ক্যান্ডালে জড়িয়েছিল। ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি কদিন আগেই এই শানু বক্সির সাথে ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের এক বিস্ফোরক ও গোপন চ্যাট (Chat) ফাঁস করে দিয়েছিলেন। সেই চ্যাট ফাঁসের পর থেকেই ওই সরকারি আধিকারিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
এবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নতুন ও ভয়ঙ্কর অভিযোগের মূল খতিয়ান নিম্নরূপ:
- পাচারকারীদের সাথে গোপন আঁতাত: বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে যে সমস্ত আন্তর্জাতিক গরু পাচারকারী, সোনা পাচারকারী এবং মানব পাচারের সেটিং চলে, তার সাথে হরিশ্চন্দ্রপুরের এই বিডিও-র গভীর তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে।
- সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা: উত্তরবঙ্গের তিনবিঘা সীমান্তে যখন বিজিবির আপত্তি উড়িয়ে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে ‘মিশন মোড’-এ এগোচ্ছে, ঠিক তখন বিডিও স্তরের একজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে পাচারকারীদের মদত দেওয়ার এই অভিযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
থানায় FIR এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে মেগা নালিশের প্রস্তুতি
মালদা জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, ছাব্বিশের পরিবর্তিত বাংলায় সুশাসনের সরকার চলছে এবং প্রশাসনের অন্দরে বসে ওপার বাংলার অপরাধীদের সুবিধা করে দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ৩ জুনের মধ্যে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সমস্ত দফতরের শূন্যপদের নিখুঁত হিসেব চেয়ে পাঠিয়েছেন এবং রাজকোষের অপচয় রুখতে ‘ম্যানপাওয়ার অডিট’ চালাচ্ছেন, ঠিক সেই প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের আবহে এই বিডিও-র বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে দল।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা ও পাচারের সহযোগিতার ধারায় এফআইআর (FIR) করার পাশাপাশি সমস্ত নথিপত্র সহ একটি কমপ্লিট রিপোর্ট সশরীরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ও নবান্নে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁকে অবিলম্বে পদ থেকে সাসপেন্ড করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা যায়। অন্য দিকে, এই মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে বিডিও শানু বক্সি বা স্থানীয় বিদায়ী শাসকদল তৃণমূলের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
একদিকে যখন রাজারহাটের মুসলিম পাড়ায় ৯৭ শতাংশ বিজেপি ভোট পড়া নিয়ে ইভিএম বিতর্ক তুঙ্গে এবং অন্যদিকে গারুলিয়া পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলরের গণ-ইস্তফায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের বোর্ড ধসে পড়ছে— সেই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক যুদ্ধের সমান্তরালে মালদার মালদহের মাটিতে বিডিও-র এই আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি ছাব্বিশের নব্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির এক মস্ত বড় এবং কড়া পরীক্ষা হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।