‘ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকুন, সুবিধেমতো চলুন’, কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা

‘ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকুন, সুবিধেমতো চলুন’, কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজনৈতিক মহলে তাঁর ফেসবুক বা এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলের পোস্ট মানেই নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষের একটি নতুন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কোনো নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর এই ‘কচ্ছপ’ তত্ত্বের খোঁচা আসলে দলের কোন শিবিরের দিকে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “কচ্ছপদের ভালো রাখুন। ওরা দীর্ঘদিন বাঁচে, অনেক বয়স পর্যন্ত। সিনিয়রিটিকে সম্মান দিয়ে চলুন। তাঁদের দেখে শিখুন। খোলসটা ব্যবহার করুন। ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভিতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরন। আগে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিন কোন দিকে হাঁটবেন। তারপর সুবিধেমতো চলুন।”

তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান এই নেতার এই পোস্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— কুণাল ঘোষ ঠিক কাদের নিশানা করলেন?

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কুণালের এই পোস্টে মূলত দুটি স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে:

  • সুবিধাবাদী রাজনীতিকে আক্রমণ: যারা দলের কঠিন সময়ে বা কোনো বিতর্কের আবহে নিজেদের গুটিয়ে রাখেন (‘খোলসে ঢুকে থাকা’) এবং পরিস্থিতি অনুকূল বুঝলে তবেই ময়দানে নামেন, কুণাল মূলত তাঁদেরই নিশানা করেছেন।
  • দলের প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্ব: পোস্টে ‘সিনিয়রিটি’ এবং ‘অনেক বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা’-র মতো শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের একাংশের মতে, শাসকদলের ভেতরের একাংশ নেতা যারা সবসময় গা বাঁচিয়ে চলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে থাকেন না, এই কটাক্ষ তাঁদের উদ্দেশ্যেই।

এর আগেও একাধিকবার নিজের দলের কিছু নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা গেছে কুণাল ঘোষকে। তবে লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী এই আবহে তাঁর এই ‘কচ্ছপ’ ও ‘খোলস’ তত্ত্ব যে দলের অন্দরের সুপ্ত কোনো ক্ষোভ বা নতুন কোনো সমীকরণকে ইঙ্গিত করছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা অন্য কোনো শিবিরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *