আয়ুষ্মান ভারতে কী কী সুবিধা পাবেন আমজনতা? জেনে নিন বিস্তারিত

আয়ুষ্মান ভারতে কী কী সুবিধা পাবেন আমজনতা? জেনে নিন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে আগামী জুলাই মাস থেকে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। জুলাই মাস থেকেই বাংলার সাধারণ মানুষ এই কার্ডের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। মূলত গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে চিকিৎসার বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।

এই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকলে উপভোক্তারা ঠিক কী কী সুবিধা পাবেন এবং এই প্রকল্পের আর্থিক পরিধি কতটা, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্যাশলেস সুবিধা

এই কার্ডের সবথেকে বড় সুবিধা হলো সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসা ব্যবস্থা। কার্ডধারী উপভোক্তারা অনুমোদিত যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ (Doctor’s Consultation) পাবেন।

হাসপাতাল খরচের যাবতীয় দায়ভার

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় শুধু হাসপাতালের ভেতরের খরচই নয়, বরং চিকিৎসার আগে ও পরের খরচও বহন করা হয়:

  • ভর্তির আগের খরচ: হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৩ দিন আগে পর্যন্ত যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ এই স্কিম থেকে পাওয়া যায়।
  • ছুটি পাওয়ার পরের খরচ: হাসপাতাল থেকে ছুটি (Discharge) পাওয়ার পর পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ সম্পূর্ণ মেটানো হয়।

ইনডোর পেশেন্ট বা হাসপাতালে থাকাকালীন সুবিধা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রোগীর পকেট থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হয় না। এই স্কিমের আওতাভুক্ত বিষয়গুলি হলো:

  • হাসপাতালের বেড ভাড়া ও রোগীর পুষ্টিকর খাবার।
  • সমস্ত ধরণের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইঞ্জেকশন।
  • গুরুতর অসুস্থদের ক্ষেত্রে আইসিইউ (ICU) বা সিসিইউ (CCU)-এর খরচ।
  • এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষার মতো সমস্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা।
  • অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ইমপ্ল্যান্টের (যেমন পেসমেকার, স্টেন্ট বা কৃত্রিম হাড়) সমস্ত ব্যয়ভার।

কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতায় এই প্রকল্প চালু হলে বাংলার লাখ লাখ পরিবার এক বিশাল আর্থিক সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জুলাই মাস থেকে এই কার্ডের জন্য কীভাবে আবেদন করা যাবে এবং কারা এর আওতাভুক্ত হবেন, তা নিয়ে শীঘ্রই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *