সমালোচনার মুখেও অনড় বিকাশ! নিজের পেশাগত কর্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরপর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বাম নেতার

সমালোচনার মুখেও অনড় বিকাশ! নিজের পেশাগত কর্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরপর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বাম নেতার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবীণ সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক আইনি পদক্ষেপ এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষে আদালতে মামলা লড়ায় নিজের দলের অন্দরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিকাশবাবু। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও তিনি যে নিজের অবস্থানে অনড় এবং পেশাগতভাবে কোনো ভুল করেননি, তা বোঝাতে এবার সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেছেন যাদবপুরের এই বাম প্রার্থী।

পেশাগত দায়বদ্ধতা বনাম দলীয় রাজনীতি

বিতর্কের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করে এসেছেন যে, একজন আইনজীবী হিসেবে যেকোনো নাগরিককে আইনি সহায়তা দেওয়া তাঁর পেশাগত কর্তব্য। সেখানে মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা অনভিপ্রেত। এবার এই একই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নিজের ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করছেন তিনি। আইনজীবী হিসেবে একজন নাগরিকের আইনি অধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত সততা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে তৈরি বিভিন্ন উদ্ধৃতি ও বার্তা তিনি শেয়ার করছেন, যা আসলে তাঁর সমালোচকদের উদ্দেশ্যেই কড়া জবাব বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দলের অন্দরে ক্ষোভ এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেখানে সিপিএম প্রথম সারিতে থাকে, সেখানে দলেরই এক শীর্ষনেতা শাসকদলের হেভিওয়েটদের আইনি রক্ষাকবচ দিচ্ছেন— এই বিষয়টি বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষত সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বামেদের পরাজয়ের পর এই ঘটনা কর্মীদের মনোবল ধাক্কা দিয়েছে বলে দলের নিচুতলার মত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই অনড় মনোভাব এবং একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বাম শিবিরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্বকে আরও উস্কে দিতে পারে। পেশাগত স্বাধীনতা বনাম দলীয় আনুগত্যের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আলিমুদ্দিনের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *