স্বাস্থ্যসাথী গ্রাহকরা এবার পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা

স্বাস্থ্যসাথী গ্রাহকরা এবার পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র আওতায় থাকা সমস্ত উপভোক্তাকে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার ৬ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার ক্যাশলেস চিকিৎসার আওতায় চলে আসবেন, যা রাজ্যবাসীর জন্য এক বিশাল বড় স্বস্তির খবর।

৬ কোটি মানুষের কেন্দ্রীয় বিমার সুবিধা প্রাপ্তি

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এতদিন পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প দুটির একত্রীকরণ নিয়ে নানাবিধ আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সেই জট কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধাভোগী রাজ্যের কোটি কোটি মানুষকে কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় যুক্ত করা হবে। এর ফলে উপভোক্তারা শুধু রাজ্যের ভেতরেই নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তের অনুমোদিত বড় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কলকাতায় ‘টিবি মুক্ত ভারত’ কর্মশালার উদ্যোগ

সাধারণ মানুষকে নিখরচায় বিমার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও একটি বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক প্রসারে এবং রাজ্য থেকে যক্ষ্মা রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই কলকাতায় একটি বিশেষ ‘টিবি মুক্ত ভারত’ (TB Mukt Bharat) কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এই কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের চিকিৎসকেরা অংশ নেবেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসাথীকে আয়ুষ্মান ভারতের সাথে যুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ও শহরতলীর গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দেবে। একই সাথে চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্য আরও বেশি আর্থিক অনুদান পাবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার জনস্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *