জুলাই থেকে আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথীতে যুক্ত সব উপভোক্তাই আওতায়! মেগা ঘোষণা শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু থাকা নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে যে সংশয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, শনিবার তার স্থায়ী অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকের পর শুভেন্দুবাবু ঘোষণা করেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিটি উপভোক্তাই এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার সুবিধা পাবেন। আগামী জুলাই মাস থেকেই বাংলার প্রায় ৬ কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই মেগা স্বাস্থ্যবিমার কার্ড পেতে চলেছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা ও কেন্দ্রের বিশাল আর্থিক অনুদান
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারতের নিজস্ব কিছু শর্ত থাকলেও, বাংলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথীর সমস্ত গ্রাহককেই এর আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাঁরা এতদিন স্বাস্থ্যসাথীতে ছিলেন না, তাঁরাও এই নতুন প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি মানুষ, যাঁরা পড়াশোনা বা রুজি-রুটির টানে ভিন রাজ্যে থাকেন, তাঁরাও সেখানে বসে নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য জুনের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’-এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছ থেকে ৯৭৬ কোটি টাকার অনুদান মিলেছে। এছাড়াও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে কেন্দ্রের বরাদ্দ ২১০৩ কোটি টাকার মধ্যে প্রথম কিস্তির ৫০০ কোটি টাকা রাজ্য হাতে পেয়েছে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাকরণ ও নতুন এইমস-মেডিক্যাল কলেজের ব্লু-প্রিন্ট
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:
- সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার টিকাকরণ: ১৪ বছরের কিশোরীদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে রাজ্যে বড়সড় টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ মে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
- সস্তা ওষুধের দোকান: রাজ্যে নতুন করে ৪৬৯টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনওষধি কেন্দ্র’ এবং ‘অমৃত ভাণ্ডার’ খোলা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওষুধ কেনার খরচ ১০ শতাংশ কমে যাবে এবং অমৃত ভাণ্ডারে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে ওষুধ মিলবে।
- মেডিক্যাল কলেজ ও এইমস: প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার লক্ষ্যে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমানে নতুন মেডিক্যাল কলেজ এবং উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ (AIIMS) গড়ার প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আগের খামতি ও নতুন স্বচ্ছ নিয়োগ নীতি
বৈঠক শেষে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অতীতে অসংখ্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রহণ না করায় রাজ্যবাসী স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি ২০১৫-১৭ সালে রাজ্যে ডেঙ্গুর কোনো তথ্যই কেন্দ্রকে দেওয়া হতো না। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার এবং বেশ কিছু জেলায় কুষ্ঠ নির্মূলকরণ কর্মসূচির বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ স্বাস্থ্যপ্রকল্পে রাজ্যে কর্মী নিয়োগের হার জাতীয় গড়ের (৯৮%) তুলনায় মাত্র ৫৩ শতাংশ। আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ‘স্বচ্ছ নিয়োগ নীতি’ তৈরি করে এই শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে দিল্লি থেকে তিনটি বিশেষ দল শীঘ্রই রাজ্যে আসছে।