দেশবাসীকে লুট করছে বিজেপি! আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র তোপ কংগ্রেসের

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে ভোজ্যপণ্য থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে নামল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দুধ, ময়দা, চাল থেকে শুরু করে সবজি ও ভোজ্যতেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়েছে। এই অগ্নিমূল্য বাজারের মাঝেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর ধরে পেট্রল ও ডিজেল থেকে বিপুল মুনাফা লুটে আম জনতাকে কার্যত ‘লুট’ করছে বিজেপি সরকার।
বাজার আগুন ও পেট্রপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ
পরিসংখ্যান তুলে ধরে হাত শিবিরের দাবি, বাজারে দুধের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ, ময়দা ও চালের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। পাশাপাশি, ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে সবজির দাম এবং ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ১২ শতাংশ। পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে গত ১০ দিনে বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোও রাতারাতি প্রাইস ট্যাগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
কংগ্রেসের মূল অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের ওঠানামার সুবিধা সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে না। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম হু হু করে কমে যায়, তখন দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমিয়ে আম জনতাকে কোনো সুরাহা দেওয়া হয়নি। অথচ, বর্তমানে পশ্চিম-এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতেই দেশে ফের জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
তেল সংস্থার বিপুল মুনাফা ও রাজকোষ বৃদ্ধি
তথ্য তুলে ধরে বিরোধীরা জানিয়েছেন, বিগত আর্থিক বছরে দেশের প্রধান তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা মোট ৭৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র শেষ ত্রৈমাসিক বা কোয়ার্টারেই লাভ হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে তেল কিনে দেশে চড়া দামে বিক্রি করার ফলেই এই বিপুল লভ্যাংশ (Dividend) জমা হচ্ছে কেন্দ্রের রাজকোষে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬৫ ডলারে ব্যারেল প্রতি তেল কেনা সত্ত্বেও দেশে পেট্রলের লিটার প্রতি দাম ৭০ টাকার আশেপাশে রাখার পরিবর্তে ১০৫ টাকার ওপরেই রাখা হয়েছিল।
‘নেতৃত্বের সংকট চলছে’, খাড়্গে-রাহুলের যৌথ আক্রমণ
এই পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারকে একযোগে নিশানা করেছেন কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “এই সরকারের কোনো নেতা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলো সহ বিশ্বের বহু দেশ পেট্রপণ্যের দাম কমিয়ে নিজেদের নাগরিকদের সুরাহা দিচ্ছে, আর এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নেই। দেশে আসলে এক গভীর লিডারশিপ ক্রাইসিস বা নেতৃত্বের সংকট চলছে।”
অন্যদিকে, তীব্র কটাক্ষ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধীও। মোদি সরকারকে তোপ দেগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আম জনতা আজ তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত। আর মোদিজি বলছেন— মেলোডি খাও, জ্বালানি সংকট ভুলে যাও!” পেট্রপণ্যের ওপর থেকে অবিলম্বে অতিরিক্ত সেস ও ট্যাক্স কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।