৩ জুনের মধ্যে প্রত্যেক দপ্তরের রিপোর্ট তলব! লক্ষাধিক শূন্যপদ পূরণে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নবান্নের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার পাশাপাশি এবার বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা লক্ষাধিক শূন্যপদ পূরণে এক বিশাল বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। শনিবার রাজ্য অর্থদপ্তরের অডিট শাখা থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ৩ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে তাদের শূন্যপদের বিস্তারিত সংকলিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই রিপোর্টগুলো একত্রিত করে পর্যায়ক্রমে বড়সড় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার।
প্রশাসনিক কাজের গতি ফেরাতে বড় উদ্যোগ
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভূরি ভূরি পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত স্থায়ী কর্মচারী না থাকায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছিল, অন্যদিকে আমজনতার কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড়সড় সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রশাসনিক কাজকর্মকে যথাযথভাবে সচল ও গতিশীল করতেই রাজ্য সরকার এই মেগা নিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে।
নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এক্সেল শিটে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরকে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে:
- রিপোর্টের পরিধি: প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরকে তাদের নিজস্ব মেইন দপ্তর, ডিরেক্টরেট এবং সমস্ত আঞ্চলিক বা রিজিওনাল অফিসের শূন্যপদের নিখুঁত তথ্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
- সফ্ট কপি জমা: বিস্তারিত বা ডিটেইলড রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে। নবান্নে শুধুমাত্র সব মিলিয়ে একটি সংকলিত ও একত্রিত (Consolidated) রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এই রিপোর্ট কোনো কাগজের নথিতে নয়, শুধুমাত্র সফ্ট কপিতে ‘এক্সেল স্প্রেডশিট’ আকারে জমা দিতে হবে এবং নির্ধারিত ফরম্যাট কোনোভাবেই বদল করা যাবে না।
- যথাযথ যুক্তি প্রদর্শন: সরাসরি নিয়োগের (Direct Recruitment) মাধ্যমে কত শূন্যপদ পূরণ করা প্রয়োজন এবং কেন প্রয়োজন, তার যথাযথ ও সন্তোষজনক যুক্তিও দপ্তরগুলোকে বিজ্ঞপ্তির সাথে জমা দিতে হবে। নবান্নের তরফে বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ (Top Priority) হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে শূন্যপদের সংখ্যা কত?
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিগত বছরগুলোতে বহু পদস্থ আধিকারিক ও কর্মী অবসর গ্রহণ করলেও সেই স্থায়ী পদগুলো পূরণ করা হয়নি। উলটে সিভিক বা অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছিল। ফলে বর্তমানে রাজ্যে চুক্তিবদ্ধ বা অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় চার লক্ষে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, স্থায়ী নিয়োগ থমকে থাকায় এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রকৃত শূন্যপদের সংখ্যা অন্তত তিন লক্ষ ছুঁয়েছে। অর্থদপ্তরের এই সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির পর ওয়াকিবহাল মহলের আশা, আগামী দিনে রাজ্য সরকারি দপ্তরে খুব শীঘ্রই একটি বিশাল বড় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসতে চলেছে।