গোরু জবাই ও গোমাংস রপ্তানি বন্ধ হোক! মোদির কাছে বিশেষ আরজি আজমির শরিফের মৌলবির

গোরু জবাই ও গোমাংস রপ্তানি বন্ধ হোক! মোদির কাছে বিশেষ আরজি আজমির শরিফের মৌলবির

জয়পুর: দেশজুড়ে সম্পূর্ণ বন্ধ হোক গো-হত্যা ও গোরু জবাই। একইসঙ্গে গোরুকে ঘোষণা করা হোক ভারতের ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে। আসন্ন ইদুজ্জোহা (বকর-ই-ইদ) উৎসবের প্রাক্কালে এমনই এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ দাবি তুললেন রাজস্থানের আজমির শরিফের অন্যতম শীর্ষ মৌলবি সইদ সারওয়ার চিস্তি। আগামী ২৮ মে দেশজুড়ে পবিত্র ইদুজ্জোহা পালিত হতে চলেছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ গোরু কোরবানি দিয়ে আসছেন। ঠিক সেই আবহে আজমির শরিফের এই মৌলবির মন্তব্য দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংবিধানিক রক্ষাকবচের দাবি

সইদ সারওয়ার চিস্তি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী তথা হিন্দুদের কাছে গোরুর একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গভীর ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। তাই বহুত্ববাদী ভারতে অন্য একটি প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এই বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রত্যেকের অবশ্য কর্তব্য। গো-হত্যা ও জবাই চিরতরে রুখতে দেশে একটি কড়া সাংবিধানিক রক্ষাকবচ জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বিশেষ আরজি জানিয়ে চিস্তি বলেন, সরকারের উচিত সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে অবিলম্বে গো-হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর কেন্দ্রীয় আইন আনা এবং গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া। এই বিষয়টিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

গোমাংস রপ্তানি ও গোরু পাচার বন্ধের পক্ষে সওয়াল

আজমির শরিফের মৌলবির দাবি, এই আইন আনা হলে তা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহু সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনও এই সিদ্ধান্তকে সানন্দে স্বাগত জানাবে। এর পাশাপাশি একটি বড় বিষয়ের দিকে আলোকপাত করে চিস্তি বলেন, গোরু পাচারের ভুয়ো অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটে, তাও এবার বন্ধ হওয়া দরকার। তাঁর অভিমত, কেন্দ্র সরকার যদি দেশ থেকে গোমাংস রপ্তানি (Beef Export) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়, তবে পাচার ও হিংসার এই সমস্ত অভিযোগ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।

রাস্তায় গোরু ছেড়ে দেওয়ার অভ্যাসের তীব্র বিরোধিতা

আইন প্রণয়নের দাবির পাশাপাশি সমাজের একাংশের মানসিকতা নিয়েও সরব হয়েছেন মৌলবি চিস্তি। দেশের বহু জায়গায় দুধ দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা বুড়ো গোরু ও গবাদি পশুকে যেভাবে রাস্তায় যত্রতত্র ছেড়ে দেওয়া হয়, তার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেই নিজের বাড়ির পোষ্য জীবকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক বা মানবিক কাজ নয়। এই সমস্ত কিছু বন্ধ করতে একটি সামগ্রিক আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এতদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে, তাই এবার অন্তত তাদের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন আজমির শরিফের এই ধর্মীয় গুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *