আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাসিনাকে ফেরানো হোক! সরব বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাসিনাকে ফেরানো হোক! সরব বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে বাংলাদেশে মুজিব-কন্যার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর, এবার তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হলেন সেদেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

‘আইনি বাধা নেই’, দাবি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা আছে বলে এই মুহূর্তে মনে হয় না।” বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন মনে করছে, যেহেতু দেশের শীর্ষ আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া সাজা ঘোষণা করা হয়েছে, তাই অপরাধী হস্তান্তর চুক্তি বা আইনি পরোয়ানা মেনে তাঁকে ফিরিয়ে আনাটা এখন সময়ের অপেক্ষা।

দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ শেখ হাসিনার

দিনকয়েক আগে একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর দেশে ফেরার আকুলতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, তিনি খুব দ্রুত বাংলাদেশে ফিরতে চান। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময় বা তারিখের ওপর তাঁর ফেরার বিষয়টি নির্ভর করছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামি লিগ নেত্রী দাবি করেন, “বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছি। আমার ফেরাটাই সব নয়। বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা এবং অন্যদিকে তাঁকে আইনি পথে ফেরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থান দিল্লির জন্য এক বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হতে চলেছে। ভারত সরকার এই প্রত্যর্পণ দাবির মুখে কী পদক্ষেপ নেয় এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *