কুণাল ঘোষের পদ প্রাপ্তি নিয়ে টানাপোড়েন, অগ্নিমিত্রার দাবি উড়িয়ে ‘অর্ডার কপি’র পালটা চ্যালেঞ্জ বিধায়কের

বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যপদ নিয়ে খোদ শাসকদলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জট। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে এই হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য করা হয়েছে বলে খবর ছড়াতেই আসরে নামেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রীর দাবি, কুণাল ঘোষকে এই পদে মনোনীত করার কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। অন্যদিকে, মন্ত্রীর এই দাবিকে ‘মস্ত বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে পালটা আইনি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ ও মন্ত্রীর দাবি
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে ‘আত্মবিশ্লেষণ’ ও মুক্ত আলোচনার দাবি তুলে সরব হয়েছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এমন একজন বিধায়ককে হঠাৎ রোগী কল্যাণ সমিতিতে জায়গা দেওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। এর পরেই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান যে, সরকারের পক্ষ থেকে কুণালবাবুর নাম পাঠানো হয়নি এবং এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কুণালের পালটা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, প্রথমে ফোনে এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি চিঠি পাঠিয়ে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। এমনকি তার বাড়িতে এসে নথির ‘হার্ড কপি’ বা অর্ডার কপিও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের দাবি, তার নাম আসায় সরকারের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক বা ‘প্যানিক রিঅ্যাকশন’ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং গোষ্ঠীকোন্দল আবারও প্রকাশ্যে চলে এল। বিধায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পদে থাকা নিয়ে তার কোনো মোহ নেই, তবে তাকে বাদ দিতে হলে সরকারকে আইনি পথেই নতুন করে প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে দলের অন্দরে কুণাল ঘোষের অবস্থানের ওপর এবং সরকারের ভাবমূর্তিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।