মুখ্যমন্ত্রী বদলাতেই এল সুখবর, নবান্নের ডাকে এবার ‘জনতার দরবারে’ বঞ্চিত ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরা

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার জট কাটাতে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজপথের লড়াইয়ের পর অবশেষে আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কথা শুনতে নিজের ‘জনতার দরবারে’ ডেকে পাঠালেন তিনি। ‘পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদের আগামী সোমবার সকালে সল্টলেকে আয়োজিত জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের জন্য নবান্নের তরফ থেকে ফোন করা হয়েছে। গত ২০ মে, বুধবার ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে একটি ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন। তার ঠিক তিনদিনের মাথায় এই ডাক আসায় খুশির হাওয়া আন্দোলনকারীদের শিবিরে।
ঐক্য মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই আমন্ত্রণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ন্যায়ের দাবিতে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ ইতিহাস। এই মঞ্চের বহু সদস্য গত ৮ থেকে ১২ বছর ধরে তৎকালীন সরকারের কাছে দেখা করার জন্য আবেদন জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু বিগত আমলে সেই আকুল আবেদন গুরুত্ব পায়নি, উল্টে পাওনা চাইতে গিয়ে পুলিশি হেনস্থা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আন্দোলনকারীদের। ধর্মতলার মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশে রাজ্য গ্রুপ ডি ওয়েটিং মঞ্চ এক টানা ১৩৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ধর্ণা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের চাকরি আন্দোলনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়।
সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছে ৫টি বড় সংগঠন
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঐক্য মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত ৫টি বড় সংগঠনকে এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে রাজ্য গ্রুপ ডি ওয়েটিং প্রার্থী মঞ্চ, ২০০৯ বঞ্চিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থী মঞ্চ, NSQF শিক্ষক পরিবার, ২০১৪ নট ইনক্লুডেড প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ মঞ্চ এবং মাদ্রাসা সার্ভিস পাশ কমিশন মঞ্চ। প্রাথমিকভাবে এই নির্দিষ্ট মঞ্চগুলি সুযোগ পেলেও ঐক্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বঞ্চিত সংগঠনের পুঞ্জীভূত সমস্যাই সোমবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হবে।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ দুর্নীতি ও যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের অভাবই এই আন্দোলনের মূল কারণ। নতুন সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের আইনি ও সামাজিক অচলাবস্থা কাটার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যদি ইতিবাচক সমাধান সূত্র বের হয়, তবে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী চাকরি ফিরে পেতে পারেন এবং রাজ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া গতিশীল হতে পারে। একইসঙ্গে নবান্নে সকল বঞ্চিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৃহত্তর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকার আবেদনও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।