ফলতায় ভোটগণনা শুরু, ফাঁকা মাঠে মার্জিন বাড়ানোর লড়াইয়ে বিজেপি

ফলতায় ভোটগণনা শুরু, ফাঁকা মাঠে মার্জিন বাড়ানোর লড়াইয়ে বিজেপি

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে কড়া নিরাপত্তায় এই গণনা প্রক্রিয়া চলছে। তবে গণনা কক্ষের ভেতরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গিয়েছে। ভোট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর, গণনা কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের কোনো কাউন্টিং এজেন্ট উপস্থিত নেই।

বিজেপির ফাঁকা মাঠ ও তৃণমূলের অনুপস্থিতি

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। শাসক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় ভোট গণনার আগেই রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আজ গণনা শুরু হতেই দেখা যায়, ১৯টি টেবিলে ২১ রাউন্ডের এই গণনায় তৃণমূলের কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত হননি। ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির সামনে এখন শুধুই জয়ের ব্যবধান বা মার্জিন বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত ও ভোটের হার

তৃণমূল প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও ফলতায় মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। পদ্ম শিবিরের পাশাপাশি ময়দানে রয়েছে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও ফলতার মানুষ বিপুল উৎসাহে ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ। বাম ও কংগ্রেস এই বিপুল ভোটের কতটা নিজেদের বাক্সে টানতে পারল এবং বিজেপির ভোটব্যাংকে কতটা থাবা বসাল, তা এই গণনার মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে।

ফলাফলের পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

গণনা সবেমাত্র শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে পোস্টাল ব্যালট মেলানোর কাজ চলছে। চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে আর কিছু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবে জয়ের বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গণনা কেন্দ্রের বাইরে ইতিমধ্যেই আবির খেলায় মেতে উঠেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ফলতার এই নির্বাচন রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই জয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *