সীমান্তে এবার প্রযুক্তির দুর্ভেদ্য প্রাচীর, পাহারায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সীমান্তে এবার প্রযুক্তির দুর্ভেদ্য প্রাচীর, পাহারায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবং অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল মানবশক্তির ওপর নির্ভরশীল না রেখে, এবার তাতে যুক্ত করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি ‘স্মার্ট বর্ডার’ নামের এই নতুন ও বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার এলাকাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য করে তোলা হবে।

নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পটি মূলত কমপ্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিআইবিএমএস (CIBMS)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্গম ও নজরদারির জন্য জটিল সীমান্ত এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত করাই এর মূল লক্ষ্য। নতুন এই ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টার স্বয়ংক্রিয় নজরদারির জন্য রিয়েল-টাইম ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্মার্ট ক্যামেরা এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক সিস্টেমের বিশাল নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে রয়েছে দিন-রাত নজরদারির উপযোগী সিসিটিভি এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, যা সম্পূর্ণ অন্ধকার, ঘন কুয়াশা বা জঙ্গলের মধ্যেও মানুষের শরীরের তাপমাত্রা মেপে অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম। এই ক্যামেরাগুলোতে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তি মানুষ, পশু, যানবাহন ও ড্রোনের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারবে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সতর্কবার্তা পাঠাবে। এর পাশাপাশি থাকবে গ্রাউন্ড সার্ভেল্যান্স রাডার এবং ব্যাটলফিল্ড রাডার, যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেই চোরাচালান বা নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোনের উপস্থিতি ধরে ফেলবে।

ঘটনার কারণ ও দূরগামী প্রভাব

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং দীর্ঘদিনের জনবিন্যাস পরিবর্তনের অপচেষ্টাকে চিরতরে বন্ধ করতেই কেন্দ্র এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পক্ষে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, যা দূর করবে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অপরাধ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আরও সহজতর করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *