বিজেপি অফিসে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রণক্ষেত্র পূর্ব বর্ধমান, কাঠগড়ায় তৃণমূল

পূর্ব বর্ধমানের নেড়োদিঘী এলাকায় এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে সফিক শেখ নামে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের দাবি, কার্যালয়টি বিজেপির এবং সফিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুরনো শত্রুতা ও জমি বিবাদ
মৃত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক শত্রুতা এবং জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদ। মৃতের বাবা ইদ্রিশ শেখের বয়ান অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল সমর্থকের সঙ্গে সফিকের মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের পরিবার তৃণমূলের সমর্থন ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয় এবং সফিক নিয়মিত এই দলীয় কার্যালয়ে আসত। পরিবারের অভিযোগ, জমি বিবাদের জেরে সফিককে পরিকল্পিতভাবে খুন করে আত্মহত্যার রূপ দিতে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের দিকে আঙুল, দায় এড়াল বিজেপি
পরিবার সফিককে বিজেপি কর্মী এবং ঘটনাস্থলটিকে বিজেপি অফিস বলে দাবি করলেও, পদ্ম শিবির এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র মানতে নারাজ। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বিজেপির কোনো দলীয় কার্যালয় বা সক্রিয় কার্যকর্তা থাকার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। রাজনৈতিকভাবে এলাকাটি তাঁদের অনুকূলে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনাস্থলটি কার কার্যালয়, তা নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে প্রশাসন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। রাজনৈতিক পারদ চড়তে থাকায় পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মহল।