তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল কার্যালয় ঘেরাও করে গ্রেফতার পৌরনিগমের দাপুটে কাউন্সিলর!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত করতে শুরু করেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তোলাবাজি ও মারধরের গুরুতর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পৌরনিগমের ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে। শনিবার ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে ঘেরাও করে ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগের পাহাড় ও নাটকীয় গ্রেফতারি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে শীল পাড়া এলাকার একটি দোকান থেকে ৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার পাশাপাশি পৌরনিগমের ক্ষমতা প্রয়োগ করে দোকানটি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সুদীপের বিরুদ্ধে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই শনিবার ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ জমা পড়তেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। তৃণমূল কার্যালয়ের ভেতরে সুদীপ পোল্লে অবস্থান করার সময়ই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ানরা এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিতর্কিত অতীত ও রাজনৈতিক প্রভাব
সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও অতীতে এই কাউন্সিলরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। বছর দুয়েক আগে বড়িশায় একটি চার্চের নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের মেরামতিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন মেয়র ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন চার্চের বিশপ স্বয়ং। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শখের বাজারে বিজেপির নির্বাচনী মঞ্চ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এলাকার প্রবীণ নাগরিকদের বাড়ি দখলের মতো একাধিক ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন সুদীপ।
এক সময় সাধারণ সংবাদপত্র বিক্রেতা ও পানের দোকানদারের সন্তান সুদীপ পোল্লের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। ২০১০ সালে প্রথমবার পুরভোটের টিকিট পেয়ে জয়ী হওয়ার পর এলাকায় তাঁর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জমানায় ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ পেয়ে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতারি শাসক শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন বরো চেয়ারম্যানের এভাবে গ্রেফতার হওয়া প্রমাণ করে যে, রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের পর পুলিশ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এই ঘটনা যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, তেমনই পৌরনিগমের অন্যান্য কাউন্সিলর ও নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি কড়া বার্তা দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।