নীল জার্সিতে ফেরার লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত চোট কাটিয়ে ওঠা রিয়ান পরাগ

নীল জার্সিতে ফেরার লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত চোট কাটিয়ে ওঠা রিয়ান পরাগ

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নেওয়া বা ধরে রাখা কতটা কঠিন, তা ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স এবং চোট-আঘাতের পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ২৪ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার রিয়ান পরাগ গত বছর ভারতের জার্সি গায়ে মাঠ মাতালেও, চলতি বছরে কাঁধের চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বর্তমানে তাঁর এক সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিদর্ভের বিরুদ্ধে আসামকে ৫৮ রানে জেতানোর পর রিয়ান সরাসরি জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে ভারতের হয়ে সাদা বলের দুটি ফর্ম্যাটেই খেলার যোগ্য মনে করেন। একে কেউ অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বললেও তাঁর কিছু যায় আসে না, কারণ চোটই তাঁর দলে ফেরার একমাত্র অন্তরায়।

ফর্মের খরা বনাম মানসিক দৃঢ়তা

রিয়ান পরাগ যখন জাতীয় দলে ফেরার জন্য তীব্র আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। চলতি সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে আসামের অধিনায়কত্ব করলেও ব্যাট হাতে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। টুর্নামেন্টের পাঁচটি ইনিংসে মাত্র ৭.৮০ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৩৯ রান। এমনকি কাঁধের চোটের কারণে এই প্রতিযোগিতায় এখনো তাঁকে বোলিং করতেও দেখা যায়নি। দলের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় এসেছে। অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার হিসেবে মাঠের এই বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পরেও নিজের আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চির ধরতে দেননি এই তরুণ ক্রিকেটার।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও জাতীয় দলের সমীকরণ

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়ানের এই মন্তব্য যেমন তাঁর মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ করে, তেমনই এটি তাঁর ওপর বাড়তি চাপও তৈরি করতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান না পেয়েও জাতীয় দলে ফেরার এমন দাবি নির্বাচকদের রাডারে তাঁকে কতটা ইতিবাচক রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে এই ধরনের আগ্রাসী মানসিকতা অনেক সময় ক্রিকেটারদের চোট সারিয়ে দ্রুত চেনা ছন্দে ফিরতে সাহায্য করে। রিয়ান পরাগ পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠলে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের খরা কাটাতে পারলে অলরাউন্ডার হিসেবে ভারতীয় সীমিত ওভারের দলে তাঁর ফেরার রাস্তা তৈরি হতে পারে। তবে তার আগে ব্যাটে-বলে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে এই আত্মবিশ্বাসের যথার্থতা প্রমাণ করাই হবে তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *