রবিবারের চেনা মটনের ঝোলে এবার সাহেবি টুইস্ট, গরমে রসনা তৃপ্ত করবে ‘মটন পট রোস্ট’

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা বাংলা। গ্রীষ্মের এই দাবদাহে যখন সাধারণ জীবনযাত্রাই ব্যাহত, তখন বাঙালির রবিবাসরীয় রসনা তৃপ্তিতে কিন্তু ভাটা পড়েনি। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনটিতে একটু ভালো-মন্দ না হলে বাঙালির ছুটিটাই যেন জমে না। তবে এই তীব্র গরমে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত কষা মাংস এড়িয়ে চেনা মাংসের ঝোল আর গরম ভাতের স্বাদকেই একটু আধুনিক রূপ দিচ্ছে ‘মটন পট রোস্ট’। সুদূর ব্রিটেন থেকে আসা এই সাহেবি পদটি এখন দেশীয় হেঁশেলের সামান্য কিছু উপাদানের জাদুতে রসনামোদীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
এই পদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর সরলতা ও রাজকীয় স্বাদ। এটি তৈরি করতে খুব বেশি জটিল মশলার প্রয়োজন হয় না। বড় টুকরো করে কাটা খাসির মাংসের সাথে আদা-রসুন বাটা, গোটা গোলমরিচ, মাঝারি মাপের আলু, ওপরের খোসা ছাড়ানো গোটা পেঁয়াজ, ভিনিগার, চিনি, নুন এবং সাদা তেলই এই রান্নার প্রধান উপাদান। প্রথমে মাংস মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করে রেখে, কড়াইতে আলু ও পেঁয়াজ হালকা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হয়। এরপর ওই তেলেই মাংস প্রায় ২০ মিনিট ধরে ভালো করে কষে বাদামি রঙ ধারণ করলে জল দিয়ে তা প্রেসার কুকারে সুসিদ্ধ করা হয়।
স্বাদের বদল ও সুস্বাদু প্রভাব
রান্নার চূড়ান্ত পর্বে সিদ্ধ মাংস তুলে রেখে বাকি ঝোল ফুটিয়ে ঘন করা হয় এবং তাতে ভিনিগার, চিনি, ভাজা আলু ও মাংস দিয়ে কষানো হয়। একদম শেষে যোগ করা হয় গোটা ভাজা পেঁয়াজ। মূলত বিদেশি এই পদটি পাউরুটির সাথে খাওয়ার চল থাকলেও, বাঙালিরা গরমের দুপুরে গরম ভাতের সাথেই এটি বেশি পছন্দ করছেন। অতিরিক্ত রিচ বা মশলাদার না হওয়ায় এই পদটি গরমে শরীরের জন্য যেমন আরামদায়ক, তেমনই গোলমরিচ ও ভিনিগারের হালকা টক-ঝাল কম্বিনেশন মুখের স্বাদ বদলাতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। চেনা রবিবারের চেনা মাংসের ঝোলে এই সাহেবি ছোঁয়া গৃহিণীদের রান্নার ঝক্কি কমানোর পাশাপাশি ভোজনরসিকদেরও এক ভিন্ন স্বাদ উপহার দিচ্ছে।