বিতর্ক এড়াতে নয়, পুজোর আগেই তপসিয়ার পুরনো ঠিকানায় ফিরছে তৃণমূলের সদর দপ্তর

বাইপাসের ধারের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে শীঘ্রই তপসিয়ার চেনা ঠিকানায় ফিরতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই সিদ্ধান্ত কোনও আকস্মিক বিতর্কের জেরে নয়, বরং নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কারণেই নেওয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। ২০০২ সালে তপসিয়ার উত্তরপঞ্চান্ন গ্রামে তৃণমূলের যে সদর দপ্তরটি গড়ে উঠেছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তা ভেঙে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। সেই অন্তর্বর্তী সময়ে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য সায়েন্স সিটির কাছে বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে একটি গেস্ট হাউস ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই অস্থায়ী আস্তানা ছেড়েই নিজেদের পুরনো এবং স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছে জোড়াফুল শিবির।
বাড়ি খালি করার জল্পনা ও বাস্তব পরিস্থিতি
সম্প্রতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই বাইপাসের ধারের ওই অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায় যে, ভবনের মালিক মন্টু সাহা তৃণমূলকে বাড়ি খালি করার নোটিস পাঠিয়েছেন। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি মালিকের পক্ষ থেকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি, বরং নতুন ভবন প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় তৃণমূল নিজেই ওই বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভবনের মালিকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক গোলমালের কারণে তাঁর বাড়ির কিছু ক্ষতি হওয়ায় তিনি চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু বাড়ি খালি করার নোটিসের মতো কোনও বিষয় এর পেছনে নেই।
স্থানান্তরের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল সূত্রের খবর, তপসিয়ার পুরনো ঠিকানায় এবার আট তলার একটি সুবিশাল ও আধুনিক ভবন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী অফিসের পাঁচটি তলা মিলিয়ে যতটা জায়গা পাওয়া যায়, নতুন ভবনের মাত্র দুটি তলাতেই সেই পরিমাণ স্থান রয়েছে। ফলে দলের সামগ্রিক এবং বৃহৎ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করা এই নতুন বহুতল থেকে অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের নির্বাচনী পর্ব মিটে যাওয়ার পরপরই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু করার কথা ছিল। বর্তমানে নতুন ভবনের কিছু অংশের কাজ জরুরিভিত্তিতে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তিন মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুর্গাপুজোর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে তপসিয়ার এই নতুন ও নিজস্ব সদর দপ্তর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা শুরু করবে, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।