ফলতায় ফাঁকা মাঠে গোল বিজেপির, ধরাশায়ী তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের গণনা শুরু হতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পট পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুনর্নির্বাচন থেকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই যে রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, ব্যালট বাক্স ও ইভিএম গণনা শুরু হতেই তা বাস্তব রূপ নিল। গণনার শুরু থেকেই বিশাল ব্যবধানে লিড নিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে চলেছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। অন্যদিকে শাসক দলের হেভিওয়েট প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের স্থান হয়েছে চতুর্থ নম্বরে।
বিজেপির একতরফা আধিপত্য ও বিরোধীদের লড়াই
রবিবার সকাল আটটা থেকে কড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে গণনা শুরু হয়। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরবর্তীতে ইভিএম গণনা, প্রতিটা রাউন্ডেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা নিজের জয়ের ব্যবধান ক্রমশ বাড়িয়ে নিয়েছেন। প্রথম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী যেখানে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন, চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে সেই ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৩ ভোটে। চতুর্থ রাউন্ডের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী ২৫ হাজার ৪৩৮টি ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মির নাম, যিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৪৫টি ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক মোল্লা ২ হাজার ৯৯৬টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। এই রাউন্ডের শেষে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান মাত্র ১ হাজার ৪০৫টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে তলিয়ে গেছেন। গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিজেপি সমর্থকদের আবির খেলা ও উল্লাস রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
তৃণমূলের অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
ফলতার এই ফলাফলের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীর ভোট ময়দান থেকে আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে। ভোট বয়কটের এই সিদ্ধান্তের জেরে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে তৃণমূলের কোনো এজেন্টের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে কার্যত ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বিজেপির সামনে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে কর্মীদের উৎসাহ দেখে শুরুতেই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।
এই ফলাফলের জেরে স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় বিজেপির এই বিপুল ব্যবধান আগামী দিনে এই অঞ্চলে ঘাসফুল শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের ভোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিরোধীদের ভোটব্যাংক সুসংহত হওয়া এই অভাবনীয় ফলের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।