ত্বিশা শর্মার রহস্য মৃত্যুতে এবার সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, কাল শুনানি

প্রাক্তন ‘মিস পুনে’ তথা মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তদন্তে গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামীকাল, সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভিপুল এম পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি হবে। শীর্ষ আদালত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত পক্ষকে শুনানির দিন উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ সরকার এই মৃত্যুর তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে এবং নিম্ন আদালত মরদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তবে ঘটনার গুরুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান আইনি জটিলতার কথা মাথায় রেখেই সুপ্রিম কোর্ট নিজে থেকে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
তদন্তে নয়া মোড় ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিশা শর্মার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করে। সম্প্রতি মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছু বিশেষ ছবি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, যা মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই নতুন তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে তদন্তকারী দল একাধিক দিক পুনর্বিবেচনা করছে। ঘটনার মূল সূত্র খুঁজতে পুলিশ ত্বিশার স্বামী সম্রাট সিং-কে জবলপুর থেকে ভোপালের কাটারা হিলস থানায় এনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
এরই মধ্যে আইনি চাপ বাড়াতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া সম্রাট সিংয়ের আইনজীবির লাইসেন্স বাতিল করেছে। অন্যদিকে, ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের ভোপালের বাড়িতে হাইকোর্টের নোটিশ দেওয়ালে সাঁটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। গিরিবালা সিং একজন প্রাক্তন জেলা বিচারক এবং বর্তমানে ভোপাল জেলা কমিশনের সভাপতি পদে আসীন থাকায় তাঁর প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ত্বিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর মারাত্মক যৌতুকের চাপ দেওয়া হচ্ছিল। দাবি পূরণ না হওয়াতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এই ঘটনায় একজন প্রভাবশালী প্রাক্তন বিচারকের নাম জড়ানোয় প্রথম থেকেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
সুপ্রিম কোর্টের এই স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের ফলে স্থানীয় পুলিশ বা রাজ্য প্রশাসনের ওপর কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ খাটানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সিবিআই তদন্তের সুপারিশ এবং শীর্ষ আদালতের কড়া নজরদারির কারণে এই রহস্য মৃত্যুর প্রকৃত সত্য খুব দ্রুত সামনে আসতে পারে, যা আগামী দিনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যুক্ত থাকার মামলায় এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।