রবিবারেও স্বস্তি নেই, ছয় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে জারি হলুদ সতর্কতা!

রবিবারেও স্বস্তি নেই, ছয় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে জারি হলুদ সতর্কতা!

তীব্র গরম আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে গোটা বাংলা। সকাল হতেই ঊর্ধ্বমুখী পারদ আর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও অসহনীয়। আকাশে মাঝে মাঝে মেঘের দেখা মিললেও কাটছে না অস্বস্তি; বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম সাধারণ মানুষকে চরম নাজেহাল করছে। ছুটির দিনে সাধারণ মানুষের বিনোদনের পরিকল্পনায় জল ঢেলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলার আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকবে।

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টিতে গরম কমার কোনো লক্ষণ নেই, উল্টে তা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার জোড়া ফলায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের মেঘ ও কমলার সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও আবহাওয়ার বড়সড় দুর্যোগের পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় ইতিমধ্যে কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। এছাড়া জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলাতেও ভারী বর্ষণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।

জোড়া দাপটে ভোগান্তির ইঙ্গিত

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প এবং স্থানীয় তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণেই এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে সোমবারও আবহাওয়ার বিশেষ কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সোমবার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টি বজায় থাকবে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন গরমের তীব্রতা এবং আকস্মিক ঝড়বৃষ্টির জোড়া দাপটেই ভুগতে হতে পারে রাজ্যবাসীকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *