ওষুধের বদলে আস্ত এয়ারপড গিলে ফেললেন তরুণী!

ওষুধের বদলে আস্ত এয়ারপড গিলে ফেললেন তরুণী!

বিছানায় শুয়ে অসাবধানতাবশত ওষুধ খেতে গিয়ে আমেরিকার বোস্টনে এক তরুণী আস্ত একটি এয়ারপড গিলে ফেলেছেন। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে অসতর্কতার এক চরম উদাহরণ তৈরি করেছেন কার্লি বেলমার নামের ২৭ বছর বয়সী এক পডকাস্টার। এই অদ্ভুত ও ভয়ংকর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কার্লি বেলমার জানান, রাতে ঘুমানোর আগে তার এক হাতে ছিল ৮০০ মিলিগ্রামের একটি আইবুপ্রোফেন ট্যাবলেট এবং অন্য হাতে ছিল একটি এয়ারপড। অসাবধানতাবশত তিনি ওষুধের পরিবর্তে জলর সঙ্গে এয়ারপডটি গিলে ফেলেন। প্রথমে বিষয়টি টের না পেলেও কিছুক্ষণ পর গলায় অস্বস্তি শুরু হলে তার সন্দেহ হয়। বমি করে সেটি বের করার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। চরম আতঙ্কের বিষয় হলো, এয়ারপডটি তখনও তার আইফোনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় তিনি নিজের পেটের ভেতর থেকে সেটির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে ডিভাইসটি তার পাচনতন্ত্রে পৌঁছে গেছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেটি প্রাকৃতিকভাবেই তার শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহার ও প্রাণঘাতী ঝুঁকি

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত শোনালেও এর প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। গ্যাজেট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস অসাবধানতাবশত গিলে ফেললে তা মানুষের গলা, পাকস্থলী এবং অন্ত্রে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো, এসব ডিভাইসে থাকা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি যদি পাকস্থলীর অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে লিক বা ফুটো হয়ে যায়, তবে তা থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে মুহূর্তেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারাক্ষণ কানে এয়ারপড বা গ্যাজেট গুঁজে রাখার মানসিকতাই মানুষকে অবচেতনভাবে এমন মারাত্মক ভুলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনে সামান্যতম অমনোযোগিতাও যেকোনো সময় বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই কারণে রাতে বা অন্ধকারে ওষুধ খাওয়ার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *