ভয়মুক্ত পুনর্নির্বাচনে উলটপুরাণ ফলতায়, প্রথম রাউন্ডেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি!

কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা। ১৯টি টেবিলে মোট ২১ রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রের চারপাশে নজিরবিহীন তৎপরতা ও ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। তবে গণনার শুরু থেকেই ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় ওলটপুরাণ দেখা যাচ্ছে।
তৃণমূলের অনুপস্থিতি ও গেরুয়া শিবিরের লিড
প্রাথমিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের গণনা শুরু হতেই সেখানে এগিয়ে যায় বিজেপি। এরপর প্রথম রাউন্ডের ইভিএম গণনা শেষে দেখা গেছে, প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএম এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গণনাকেন্দ্রে এদিন সকাল থেকে তৃণমূলের কোনো এজেন্টের দেখাই মেলেনি। একসময়ের শাসকদলের দুর্গে দলীয় এজেন্টদের এই অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছে।
পটপরিবর্তনের কারণ ও জাহাঙ্গির ফ্যাক্টর
ফলতার এই আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে গত কয়েক দশকের পুঞ্জীভূত জনরোষ এবং ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগের একটি নাটকীয় ঘটনা। একসময় ফলতায় যার একচ্ছত্র দাপট ছিল এবং যাঁর ভয়ে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারতেন না, সেই ‘বাহুবলি’ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে ভোটের ময়দান থেকে কার্যত অন্তর্ধানে চলে যান। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম থাকলেও, নেতার অনুপস্থিতিতে ফলতায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
পাশাপাশি, ভোটারদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা সেখানে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। কিন্তু এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ায় এবং আধা সেনার কঠোর নিরাপত্তায় গত বৃহস্পতিবার ২৮৫টি বুথে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে উৎসবের মেজাজে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিনের ভয় কাটিয়ে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথমুখী হওয়াতেই ভোটের ফলাফলে এই বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাব্য প্রভাব
প্রথম রাউন্ডের এই ফলাফল এবং গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্ট না থাকা ফলতার রাজনীতিতে এক দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। একদা যে অঞ্চলটি তৃণমূলের অদম্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে প্রথম রাউন্ডেই চতুর্থ স্থানে চলে যাওয়া এবং বিরোধী দলগুলির বিপুল ভোট পাওয়া স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে, এলাকার ভোটাররা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ফল শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে তা ফলতায় তৃণমূলের একক আধিপত্যের অবসান ঘটাবে এবং ওই অঞ্চলে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোটের রাজনৈতিক জমিকে আরও শক্তিশালী করবে।