তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের মুখে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা, দলবদল কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?

তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের মুখে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা, দলবদল কি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?

বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রের মানোন্নয়নে রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। শনিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) এই শীর্ষনেতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শান্তনু সেনের এই প্রশংসা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের নতুন দিগন্ত

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত ও আয়ুষ্মান মন্দির প্রকল্প নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গে নতুন ‘এইমস’ (AIIMS) প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রের তরফ থেকে বিপুল আর্থিক বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি অন্যতম। এই ঘটনার পরই ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, চিকিৎসা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সৈনিক হিসেবে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এমন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

তৃণমূলের অস্বস্তি ও রাজনৈতিক সমীকরণ

শান্তনু সেনের এই পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আরজি কর কাণ্ডের সময় থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সে সময় হাসপাতালের অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়া এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁকে দলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বাংলায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠন করার পর যখন একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন, সেই আবহে শান্তনু সেনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পরিবর্তনের হাওয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি রাজ্যে থমকে ছিল। নতুন সরকারের হাত ধরে বিপুল কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ এবং উত্তরবঙ্গে এইমস-এর মতো মেগা প্রজেক্ট চালু হলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। অন্যদিকে, শান্তনু সেনের মতো একজন হেভিওয়েট চিকিৎসক নেতার এই প্রকাশ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের অন্দরে এখনও ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। আগামী দিনে চিকিৎসকদের একাংশ এবং তৃণমূলের একাংশের বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনাকে এই ঘটনা আরও উস্কে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *