ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগাবে ভেড়ার পশম! চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় আবিষ্কার

ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগাবে ভেড়ার পশম! চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় আবিষ্কার

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে নতুন দিশা! গবাদি পশুর লোম থেকে তৈরি বিশেষ আস্তরণে বিপ্লব চিকিৎসা বিজ্ঞানে

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে এক যুগান্তকারী গবেষণার নজির স্থাপন করলেন লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা। ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাড় জোড়া লাগাতে তারা এমন এক অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। গবাদি পশুর লোম বা উল (Sheep Wool) থেকে সংগৃহীত বিশেষ প্রোটিন ব্যবহার করে এই বিস্ময়কর সাফল্য পাওয়া গেছে।

কেরাটিনের জাদুকরী ভূমিকা

পশুদের উলে প্রাকৃতিকভাবেই ‘কেরাটিন’ নামক একটি শক্তিশালী প্রোটিন থাকে, যা আমাদের চুল ও নখের গঠনেও প্রধান ভূমিকা পালন করে। এতদিন পর্যন্ত গবাদি পশুর লোমকে মূলত বর্জ্য হিসেবেই দেখা হতো। তবে বিজ্ঞানীরা এখন এই কেরাটিনকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত পাতলা একটি মেমব্রেন বা আস্তরণ তৈরি করেছেন, যা হাড়ের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।

পরীক্ষামূলক সাফল্যে নতুন সম্ভাবনা

গবেষণাগারে মানুষের হাড়ের কোষের ওপর এই কেরাটিন মেমব্রেনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি খুব দ্রুত হাড়ের কোষের সাথে মিশে যেতে সক্ষম। এরপর ইঁদুরের মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে এই আস্তরণটি বসিয়ে পরীক্ষা করা হয়। কয়েক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণেই দেখা যায়, ওই স্থানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে নতুন হাড় তৈরি হয়েছে। এই ফলাফল বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।

কোলাজেনের চেয়ে শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী

বর্তমানে হাড়ের সার্জারি বা ডেন্টাল সার্জারিতে ‘কোলাজেন’ ব্যবহার করা হয়, যা হাড় জোড়া লাগাতে আঠার মতো কাজ করে। তবে কোলাজেন বেশ ব্যয়বহুল এবং অনেক সময় এটি খুব একটা টেকসই হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, কেরাটিন দিয়ে তৈরি এই নতুন পদ্ধতিটি প্রচলিত কোলাজেনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এতে থাকা ফাইবারগুলো একে অপরের সাথে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে, যার ফলে হাড়ের গঠন অনেক বেশি স্বাভাবিক এবং মজবুত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে হাড়ের গুরুতর ইনজুরি বা অস্ত্রোপচারের চিকিৎসায় এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *