শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শান্তনু সেন!

প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ও চিকিৎসক শান্তনু সেনের এই ফেসবুক পোস্টটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের শাসকদলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়েও যেভাবে তিনি বিজেপির রাজ্য সরকার এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন, তা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।
পোস্টের তাৎপর্য ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত
শান্তনু সেন তাঁর পোস্টে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন এবং বিজেপির নবনির্বাচিত সরকারকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, তা সরাসরি তৃণমূলের অবস্থানের বিরোধী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের মন্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দলের অন্দরের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব বা মতপার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
তৃণমূলের অস্বস্তির কারণ
- বিজেপির প্রতি নরম মনোভাব: তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের কঠোর সমালোচক হয়েও শান্তনু সেনের এই রূপান্তর দলের নেতৃত্বের কাছে অপ্রত্যাশিত। বিরোধী শিবিরের নেতাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক লাইনের বিরোধী।
- নেতৃত্বের সাথে দূরত্ব: সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন বিষয়ে শান্তনু সেনের নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষোভের কথা রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন হিসেবে শোনা যাচ্ছিল। এবার জনসমক্ষে এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি যেন সেই জল্পনাকেই মান্যতা দিলেন।
- সাংগঠনিক প্রভাব: প্রাক্তন সাংসদ ও চিকিৎসক হিসেবে শান্তনু সেনের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। তাঁর এই অবস্থান বদল দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং বিজেপির প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে।
শান্তনু সেনের এই পোস্টের পর তৃণমূল নেতৃত্ব বা শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা কি ভবিষ্যতে শান্তনু সেনের রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের পূর্বাভাস, নাকি এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশলী চাল—তা নিয়েই এখন রাজ্য জুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।