কলকাতার তিন এলাকায় একযোগে বুলডোজার, বেআইনি নির্মাণ ভাঙল পুরসভা

রবিবাসরীয় সকালে শহর কলকাতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে শুরু হওয়া এই বুলডোজার অভিযান রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় পুরসভার বিশেষ উদ্যোগে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযানের মূল ক্ষেত্র ও কারণ
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের নোটিশ এবং প্রশাসনিক নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় যেখানে বহুতলগুলি বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ, সেখানে এদিন সকালে প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। বিশেষ করে বেলেঘাটার ঘটনায় পুকুর ভরাট করে নির্মাণ কাজের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা পরিবেশগত দিক থেকে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনজীবন
অভিযান চলাকালীন এলাকায় যাতে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য তিলজলা, কসবা ও বেলেঘাটায় প্রচুর পরিমাণে আধা সামরিক বাহিনী (Paramilitary Forces) মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলোতে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ উঠেছে যে, বেলেঘাটার মতো এলাকায় পুকুর বোজানোর মতো বড় অপরাধ প্রশাসন বা স্থানীয় পুরসভার চোখের আড়ালে কীভাবে চলল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, এই অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি আগে তাদের নজরে সেভাবে আসেনি। তবে এখন যেহেতু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাই কোনো রকম নমনীয়তা না দেখিয়ে ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এই একযোগে বুলডোজার অভিযান কলকাতার বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কেন আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বুলডোজারের শব্দে শহরজুড়ে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।