আইনি নোটিসে এবার সুর নরম অভিষেকের, সময় চেয়ে পুরসভাকে চিঠি

কালীঘাটের শান্তিনিকেতন আবাসের বেআইনি অংশ ভাঙা এবং সম্পত্তির মূল্যায়ণ সংক্রান্ত কলকাতা পুরসভার নোটিসের জবাবে এবার সুর নরম করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভার দেওয়া আইনি সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন, রবিবার সকালে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এই নোটিস প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিলেও, শেষ মুহূর্তে তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।
আইনি জটিলতা ও অভিষেকের আবেদন
গত সোমবার কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের দুটি ঠিকানায় নোটিস ঝুলিয়ে দিয়ে আসেন। পুরসভার মূল প্রশ্ন ছিল, ওই বাড়িগুলিতে বাড়তি কোনো নির্মাণ করার জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। একই সাথে শান্তিনিকেতন আবাসের বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ১৭টি সম্পত্তিও পুরসভার নজরে আসে। এই নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই আইনজীবীর চিঠি পাঠিয়ে সময় চেয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণত পুরসভার পক্ষ থেকে এমন আবেদনে সাড়া দিয়ে সময় দেওয়া হয়ে থাকে, ফলে অভিষেকও এই ছাড় পেতে পারেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও মেজাজ বদলের কারণ
কয়েক দিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বৈঠক শেষে বেরোনোর সময় পুরসভার নোটিস নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মেজাজ হারিয়েছিলেন অভিষেক। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে আঙুল উঁচিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাবি করেছিলেন তিনি। তবে আচমকা এই আইনি প্রতিরোধ বা সংঘাতের রাস্তা থেকে সরে এসে সময় চাওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কৌশল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরসভার এই কঠোর অবস্থান এবং অভিষেকের সুর নরম করার ঘটনাটি শাসক দলের অন্দরে ও রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতেই এই বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার প্রভাব আগামী দিনে কলকাতার পুর-রাজনীতিতেও পড়তে পারে।