স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিলেন স্ত্রী! চোখের সামনেই শেষ দুই সন্তানের মা

স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিলেন স্ত্রী! চোখের সামনেই শেষ দুই সন্তানের মা

রাজস্থানের জয়পুরের মানস সরোবর এলাকায় এক ভয়াবহ পারিবারিক বিপর্যয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পণপ্রথার কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে অনু মিনা (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিজের স্বামীর চোখের সামনে ভিডিও কলে আত্মঘাতী হয়েছেন। অভিযুক্ত স্বামী গৌতম মিনা পূর্ত দপ্তরের (PWD) এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (XEN) হিসেবে কর্মরত।

ভিডিও কলে চরম পরিণতি

গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভিডিও কলে স্বামী গৌতম মিনাকে নিজের চরম সিদ্ধান্ত জানান অনু। স্বামীর চোখের সামনেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে আসল কারণ অধরা থাকলেও, মৃত্যুর কয়েকদিন পর অনুর ১০ বছর বয়সী ছেলে মাহির মায়ের ফোনের লক খুলে বেশ কিছু ভিডিও পায়। ওই ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, গাড়িতে থাকা অবস্থায় গৌতম মিনা অনুর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন, যা অনুর ওপর চালানো মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ হিসেবে এখন পুলিশের হাতে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন

২০১৫ সালে অনু ও গৌতমের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই অতিরক্ত যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। পরিবারের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গৌতম তাঁকে নিয়মিত মারধর করতেন এবং দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতেন। অনুর ভাইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, এই বছরের মার্চ মাসেও গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন গৌতম। সেই থেকেই অনু নিজের প্রাণ নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন।

অসহায় শিশুদের আকুতি

অনুর দুই সন্তান, ১০ বছরের পুত্র ও ৮ বছরের কন্যা, তাদের পিতার বিভীষিকাময় রূপ স্বচক্ষে দেখেছে। বর্তমানে তারা বাবাকে দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের মাতামহ রোহিতাশ মিনা ও মাতামহী মায়া দেবী শিশুদের অভিভাবকত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

পুলিশি তদন্ত

মানস সরোবর পুলিশ ইতিমধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৮ এবং ৮৫ নম্বর ধারায় গৌতম মিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। কল রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা রাজস্থানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নারীসুরক্ষা ও পণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *