বিপজ্জনক আম! খাওয়ার পরপরই অসুস্থ একই পরিবারের ৭ জন, অল্পের জন্য রক্ষা!

মাঝরাতে আমের রসে বিষক্রিয়া! এক পরিবারে ঘনাল বিপর্যয়
মহারাষ্ট্রের অহল্যানগরে আমের রস বা আমরাস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল একই পরিবারের সাত সদস্য। রাতের খাবার খাওয়ার পরেই পরিবারের সদস্যরা একে একে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও, একজনের শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রাণরক্ষা
বাজার থেকে কেনা আম দিয়ে বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল আমরাস। রাতের খাবারের সঙ্গে তা খাওয়ার পরই পরিবারের সাতজন সদস্যের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। ভাগ্যক্রমে, ওই পরিবারের বড় ছেলে তখনো খাবার খাননি। পরিবারের সবাইকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং স্থানীয় এশিয়ান হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে যখন তাঁদের আনা হয়, তখন অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। টানা তিন দিনের নিবিড় চিকিৎসার পর ছয়জন বিপন্মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেও একজনকে এখনও চিকিৎসাধীন থাকতে হচ্ছে।
বিষক্রিয়ার কারণ ও সতর্কবার্তা
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, আম পাকানোর জন্য ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকই এই বিষক্রিয়ার মূল কারণ। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলতে পারেন। গ্রীষ্মকালে বাজার থেকে আম কেনার সময় অতিরিক্ত সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ফল কেনার আগে খেয়াল রাখতে হবে তাতে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ রং আছে কি না অথবা গায়ে কোনো সাদা গুঁড়ো জাতীয় পদার্থ লেগে আছে কি না। এছাড়া, খাওয়ার আগে আম এক থেকে দুই ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখা এবং খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। ফলের গায়ে কোনো রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া গেলে তা বর্জন করাই শ্রেয়।