কুল ড্রিঙ্কে মদ্যপান করিয়ে ৩ বছর ধরে যৌন নির্যাতন! সুপারভাইজারের অত্যাচারে আত্মঘাতী কর্মী

কুল ড্রিঙ্কে মদ্যপান করিয়ে ৩ বছর ধরে যৌন নির্যাতন! সুপারভাইজারের অত্যাচারে আত্মঘাতী কর্মী

৮ পাতার সুইসাইড নোটে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বয়ান, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতিত তরুণের আত্মহনন

হরিয়ানার গুরুগ্রামের শিল্পাঞ্চল থেকে উঠে এসেছে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার খবর। কর্মক্ষেত্রে সুপারভাইজারের দীর্ঘমেয়াদী যৌন নিগ্রহ ও মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে রাম পুকার নামে বিহারের এক তরুণ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মৃত্যুর আগে লেখা আট পাতার সুইসাইড নোটে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব অভিযোগ, যা বর্তমানে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

যৌন নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেইলের জাল

২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে গুরুগ্রামের একটি কো ম্পা নিতে কর্মরত ছিলেন রাম পুকার। সুইসাইড নোটে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সুপারভাইজার দেবেন্দ্র কুমার কৌশলে তার কোল্ড ড্রিংকের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাকে অচেতন করতেন। এরপর সেই সুযোগে দেবেন্দ্র তার সঙ্গে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত একটানা চলে এই যৌন শোষণ।

শুধু শারীরিক নিগ্রহই নয়, অভিযুক্ত সুপারভাইজার রাম পুকারের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে মিথ্যে পুলিশি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি নিহতের পরিবারের নারী সদস্যদের প্রতিও দেবেন্দ্র কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিতেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করে মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

ব্যবস্থাপনার উদাসীনতা ও পুলিশের ভূমিকা

নির্যাতিত তরুণ এই বিষয়ে কো ম্পা নির এইচআর (HR) বিভাগ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে নিজের বিভাগ পরিবর্তনের আরজি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, কো ম্পা নির কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। কর্মস্থলের এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পরিশেষে মৃত্যুর আগে নিজের ভাইকে হোয়াটসঅ্যাপে সুইসাইড নোট পাঠিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুগ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনা ঘটার ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করেছে। এমনকি সুইসাইড নোট থেকে প্রভাবশালী অভিযুক্তের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা ও অসহযোগিতামূলক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্বজনরা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *