মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, রবিবাসরীয় সকালে কলকাতা জুড়ে পুরসভার বুলডোজার অ্যাকশন

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, রবিবাসরীয় সকালে কলকাতা জুড়ে পুরসভার বুলডোজার অ্যাকশন

শহরের বুকে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা একের পর এক বহুতল ও অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে বড়সড় অভিযানে নামল কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর রবিবার সকাল থেকেই তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটার তিনটি ভিন্ন ঠিকানায় একযোগে শুরু হয় ভাঙার কাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি এলাকায় মোতায়েন করা ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। আগেই নোটিস দেওয়া হলেও সঠিক নথিপত্র বা সদুত্তর না মেলায় এদিন বুলডোজার ও হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নিয়ম বহির্ভূত কাঠামো ও বহুতল ভবনগুলি।

তিলজলা থেকে বেলেঘাটা, দাপট দেখাল পুরসভার ডেমোলিশন টিম

রবিবার সকালে তিলজলার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম হানা দেয় পুরসভার দল। সম্প্রতি এই এলাকায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর থেকেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অগ্নিসুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করে বেশ কিছু কারখানা ও বহুতল গড়ে ওঠার অভিযোগ ছিল এখানে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন পুলিশি ঘেরাটোপে হাতুড়ি ও কাটার মেশিন দিয়ে অবৈধ কাঠামো ভাঙা শুরু হয়।

অন্যদিকে, বেলেঘাটার ইস্ট কুরিয়া রোডে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মান বাড়িতে অভিযান চালায় পুরসভা। গত ২১ তারিখে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নথিপত্র জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হলেও কোনও জবাব মেলেনি। ফলে রবিবার সকালে প্রথমে হাতুড়ি এবং পরে বুলডোজার নামিয়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয় পুরসভার কর্মীরা।

জমি দুর্নীতিতে অভিযুক্তের পাঁচতলা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি দেখা গেছে কসবার বোসপুকুর এলাকায়। জমি দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া সোনা পাপ্পুর একটি পাঁচতলা বেআইনি ভবন ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা। সঠিক নিয়ম না মেনে কীভাবে এই বিশাল ভবন তৈরি হল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শহরের বুকে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড এবং বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনার পরই এই কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন শহরের বেআইনি নির্মাণচক্রের ওপর বড় ধাক্কা আসবে, তেমনই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়ম মেনে কাজ করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা বেআইনি নির্মাণ করেছেন বা এর পেছনে মদত দিয়েছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং আগামী দিনেও এই উচ্ছেদ অভিযান জারি থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *