কাঁটাতার ঘিরেই কি ঢাকার নতুন আপত্তি, তিনবিঘায় জমি জরিপে বিজিবির বাধা ওড়ালো বিএসএফ

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার তিনবিঘা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি জরিপের কাজকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই জটিলতা তৈরি হয়। ভারতের নিজস্ব ভূখণ্ডে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার এই প্রাথমিক প্রশাসনিক পদক্ষেপে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাসরি বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ও শনিবার পরপর দুই দিন বিজিবির পক্ষ থেকে হইহল্লা করে কাজে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও, ভারতের প্রশাসন ও বিএসএফ সেই বাধাকে গুরুত্ব না দিয়ে জরিপের কাজ সম্পন্ন করেছে।
কূটনৈতিক আপত্তির নেপথ্য কারণ
ভারতের মাটিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাংলাদেশের এই আকস্মিক আপত্তির নেপথ্যে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের নিরাপত্তা জোরদারে সম্প্রতি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর অংশ হিসেবেই সীমান্ত সুরক্ষায় শিলিগুড়িতে বিএসএফের নতুন হেডকোয়ার্টার এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) বেসক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি এবং করিডোর সুরক্ষিত করার বিষয়টি ঢাকাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের ওপর চিনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাব এবং বেইজিংয়ের পরোক্ষ উস্কানিও এই সীমান্ত বিরোধের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে অতীতে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে।
সুরক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে তিনবিঘা সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ালেও ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। বাধা উপেক্ষা করেই কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক জামিল ফাতিমা জেবার উপস্থিতিতে জমি জরিপের কাজ শেষ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ইতিমধ্যেই বিএসএফ এবং বিজিবির আধিকারিক স্তরে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে ভারতের ভূখণ্ডে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে বিজিবির এই বাধা দেওয়ার প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা আগামীদিনে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।