বাগদানের পরও কেন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে ভয় পাচ্ছেন করণ কুন্দ্রা, সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি অভিনেতার

বাগদানের পরও কেন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে ভয় পাচ্ছেন করণ কুন্দ্রা, সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি অভিনেতার

টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম চর্চিত ও জনপ্রিয় জুটি করণ কুন্দ্রা এবং তেজস্বী প্রকাশ। দীর্ঘ চার বছরের প্রেম এবং সাম্প্রতিক বাগদানের পর অনুগামীরা যখন তাঁদের সানাই বাজার অপেক্ষায় দিন গুনছেন, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন করণ। রিয়্যালিটি শো ‘দেশি ব্লিং’-এ এসে অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তেজস্বীর অতিরিক্ত শিশুসুলভ আচরণের কারণেই তিনি এখনই বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাচ্ছেন। করণের মতে, তেজস্বী তাঁর কাছে প্রেমিকার চেয়েও বেশি এক ‘সন্তান’-এর মতো, যাঁর সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব এক অভিভাবকের মতো তাঁকেই সামলাতে হয়।

দায়িত্বের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা

করণের এই দ্বিধার পেছনে রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ। তিনি জানিয়েছেন, ভোরবেলা বিমানবন্দর থেকে তেজস্বীর ফেরা থেকে শুরু করে তাঁর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপকের মতো কাজও করণকে একা হাতে সামলাতে হয়। একটি বৈবাহিক সম্পর্কে যেখানে পারস্পরিক পরিপক্বতা ও সমান দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া জরুরি, সেখানে তেজস্বীর এই অপরিপক্বতা করণকে ভাবিয়ে তুলেছে। করণের বাবা-মাও ইতিপূর্বে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অভিনেতার আশঙ্কা, বিয়ের পর সন্তান হলে তাঁর ওপর দায়িত্বের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে।

লিভ-ইনের পরামর্শ হবু শাশুড়ির

এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে এক নতুন মোড় এনেছে তেজস্বীর মায়ের দেওয়া বিশেষ পরামর্শ। করণ কুন্দ্রা প্রকাশ করেছেন যে, তেজস্বীর মা নিজেই তাঁর মেয়ের এই স্বভাব সম্পর্কে অবগত এবং তিনি মেয়ের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। সেই কারণেই হবু শাশুড়িমা করণকে বিয়ের আগে তেজস্বীর সঙ্গে লিভ-ইন বা একত্রবাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রথাগত বিয়ের বাঁধনে জড়ানোর আগে তাঁরা যেন একে অপরের স্বভাব ও প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে আরও গভীরভাবে বুঝে নেওয়ার সুযোগ পান।

তারকা জুটির এই পারিবারিক সমীকরণ ও মানসিক টানাপোড়েন আগামী দিনে তাঁদের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনাটি বিনোদন জগতে আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *