সূর্যর ভবিষ্যৎ কি গম্ভীরের হাতেই, নির্বাচকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে ভারত অধিনায়ক

ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। বিগত প্রায় এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ব্যাট শান্ত। এমনকি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অফ-ফর্মের এই ধারাবাহিকতার কারণে জাতীয় নির্বাচক কমিটির পাঁচ সদস্যই এখন একযোগে সূর্যকুমারকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে নির্বাচকদের এই অনমনীয় মনোভাবের মাঝেও সূর্যকুমারের ভাগ্য নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি রয়েছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের হাতে। বোর্ড সূত্রে খবর, গম্ভীরের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে ভারত অধিনায়কের দলে টিকে থাকা।
ভবিষ্যতের ভাবনা বনাম কোচের রসায়ন
জাতীয় নির্বাচক কমিটি এখন সূর্য-যুগ পেরিয়ে ভবিষ্যতের দল গঠনের দিকে তাকাতে চাইছে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সূর্যকুমারকে আর দলে রাখার কথা ভাবছেন না তাঁরা। নির্বাচকদের স্পষ্ট যুক্তি, একজন ক্রিকেটার যদি ব্যাটার হিসেবেই দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা হারান, তবে তিনি অধিনায়ক থাকবেন কীভাবে? অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উচ্চপদস্থ কর্তারা মনে করেন, দলের সাফল্যের জন্য কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে মজবুত রসায়ন থাকা জরুরি। যেহেতু গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সূর্যকুমারের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার, তাই এই বিষয়ে গম্ভীরের ব্যক্তিগত মতামতকেই চূড়ান্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে। গম্ভীর যদি সূর্যর পাশে দাঁড়ান, তবে নির্বাচকদের হয়তো নিজেদের কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হবে।
পরবর্তী সিরিজই শেষ সুযোগ
নির্বাচকদের ধারণা ছিল, বিগত মরশুমের মতো এবারও আইপিএলের মঞ্চে রান পেয়ে ফর্মে ফিরবেন সূর্যকুমার। কিন্তু এবারের আইপিএলে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের টেকনিক্যাল ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার কোনো সদিচ্ছা দেখাননি বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকি আনকোরা পেসারদের হার্ড লেংথের বোলিংয়ের সামনেও তাঁকে অসহায় দেখিয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সাত ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটিই সূর্যকুমারের জন্য শেষ সুযোগ হতে চলেছে। এই সিরিজে রান না পেলে এবং অধিনায়কত্ব হারালে, ব্যাটার হিসেবেও নীল জার্সিতে তাঁর ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।