৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে ভারত, বাণিজ্যজটের মাঝেই বড় ঘোষণা রুবিয়োর

৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে ভারত, বাণিজ্যজটের মাঝেই বড় ঘোষণা রুবিয়োর

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। চার দিনের ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লক্ষ কোটি টাকা) পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে ভারত। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের প্রশংসনীয় ভূমিকার কারণেই এই বাণিজ্যিক পথ সুগম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব প্রথমে কলকাতায় নামলেও পরবর্তীতে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেবাতীর্থে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে দুই পক্ষই ইতিবাচক আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান রুবিয়ো।

বাণিজ্যিক চুক্তি ও পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতি

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আবহে এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) সুরক্ষিত করার বিষয়টি এই আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল অঙ্কের পণ্য ক্রয়ের সিদ্ধান্ত দুই দেশের চলমান বাণিজ্যজট কাটাতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। একদিকে ভারত যেমন নিজের জ্বালানি ও প্রযুক্তিক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে, অন্যদিকে আমেরিকাও ভারতের মতো একটি বিশাল বাজারে নিজেদের পণ্যের বড় রপ্তানি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপ আগামী দিনে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *