কলকাতায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার কড়া অ্যাকশন! বুলডোজার দিয়ে বহুতল ভাঙছে পুরসভা

কলকাতায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার কড়া অ্যাকশন! বুলডোজার দিয়ে বহুতল ভাঙছে পুরসভা

কলকাতায় অবৈধ নির্মাণ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে ময়দানে নামল প্রশাসন। তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা— এই তিন এলাকার চিহ্নিত অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। রবিবার সকাল থেকেই বুলডোজার নিয়ে পুরকর্মীরা উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকাগুলিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তৃণমূল যোগের অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

পুরসভা সূত্রে খবর, যে তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে, সেগুলির প্রতিটির সঙ্গেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের যোগসূত্র রয়েছে। বেলেঘাটার অবৈধ নির্মাণটির সঙ্গে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম জড়িয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেত্রেও স্থানীয় কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যানের পরোক্ষ মদত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যদিও অভিযুক্তরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। পুরসভার অনুমোদিত প্ল্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বহুতলগুলি কোথাও পাঁচতলা, কোথাও ছ’তলা পর্যন্ত তোলা হয়েছিল।

অভিযান চলাকালীন কসবার অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই বেআইনি কাজের তীব্র সমালোচনা করেন। কসবার বহুতলটির পেছনে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে বলে দাবি করেন পুরমন্ত্রী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও পূর্বতন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অবৈধ নির্মাণের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুরসভার দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি নোটিস ও অভিযানের কারণ

কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী দিনকয়েক আগেই এই তিন এলাকার নির্মাণকারীদের নোটিস পাঠিয়েছিল পুরসভা। এই ধারার নিয়ম মেনে প্ল্যান-বহির্ভূত অবৈধ অংশ ভাঙার জন্য প্রথমে সম্পত্তির মালিককে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকেরা সেই নির্দেশ অমান্য করায় রবিবার সকালে পুরসভা নিজেই বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে শহরের অন্যান্য অবৈধ নির্মাণকারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের ফলে ভবিষ্যতে বেআইনিভাবে বহুতল নির্মাণের প্রবণতা অনেকটাই কমবে এবং পুরসভার নিয়মকানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *